বর্তমানে পাকিস্তানের অন্যতম জনপ্রিয় ব়্যাপার ইভা বি।
অনলাইনে তার প্রচুর ভক্ত, একেকটি ভিডিওতে রয়েছে লাখ লাখ ভিউ।
কিন্তু মাথায় হিজাব আর মুখে সব সময় পর্দা থাকার কারণে রাস্তাঘাটে তাকে দেখলে কেউ চিনতে পারেন না। অনুসারীদের কাছে তার চেহারা এখনো অজানা।
মাথায় হিজাব আর মুখে সব সময় পর্দা। ২২ বছর বয়সি ইভা বি বর্তমানে পাকিস্তানের অন্যতম জনপ্রিয় ব়্যাপার। অনলাইনে তার গানের ভিডিও লাখ লাখ বার দেখা হচ্ছে।
করাচির এই তরুণী হয়ে উঠেছেন নেট ভূবনেরও সেনসেশন। অথচ কেউই চেনেন না তাঁকে! কেননা ইভার পরনে থাকে হিজাব। পর্দায় ঘেরা মুখে কেবল দৃশ্যমান চোখ দু’টি।
হিজাব-নিকাবে মুখ ঢেকে গান করেন তিনি। ফলে কণ্ঠ পরিচিত হলেও অনুসারীদের কাছে তার চেহারা অজানা। ইভা নিজেই মজা করেন বিষয়টি তিনি।
কোক স্টুডিও সিজন ১৪'তে ইভা
ইভা বলেন, এটা দারুণ ব্যাপার যে মানুষ আমাকে চিনতে পারে না। তারা আমার গান বাজায়, কিন্তু আমি যখন তাদের কাছে থাকি তারা চিনতে পারে না যে এটা আমি।
মার্কিন ব়্যাপার এমিনেম ও কুইন লতিফাকে দেখে গান লেখা শুরু করেছিলেন ইভা। পরিবার হয়তো মেনে নেবে না তাই লুকিয়ে গাইতেন তিনি।
পাড়ার একটি গানের স্টুডিওতে গিয়ে গান রেকর্ডিং করে ফেসবুকে দেয়া শুরু করেছিলেন ইভা। এভাবে বেশ কিছু অনুসারী জুটে যায় তার।
'কানা ইয়ারি' গানে ইভা
তবে ব়্যাপ বিষয়টিকে তার পরিবার শুরুতে মেনে নেয়নি। একজন তরুণীর জন্য এটাকে তারা অশ্লীল
মনে করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার জেদের কাছে হার মানেন পরিবারের সদস্যরা।
তারা বুঝতে পারেন যে, ইভাকে ব়্যাপ থেকে সরানো সম্ভব নয়। তাই পরে তারা তাকে সহায়তা করা শুরু করেন।
লাইভ পারফর্মেন্সে ইভা
ইভার কথায়, পরে তাঁরা বুঝতে পেরেছিলেন আমার জেদ কতটা। তাই তাঁরা হাল ছেড়ে দিয়েছেন। বুঝতে পেরেছিলেন আমাকে থামানো যাবে না।
সম্প্রতি কোক স্টুডিও পাকিস্তানের আয়োজনে একটি গানে অংশ নেয়ার পর ঝড়ের গতিতে ইভার জনপ্রিয়তা বেড়ে যায়। ইউটিউবে এখন পর্যন্ত গানটি দেখেছেন ১৭ লাখের বেশি মানুষ।
পাকিস্তানের করাচির লিয়ারি এলাকায় থাকেন ইভা। এক সময় লিয়ারিকে দেশের অন্যতম বিপজ্জনক এলাকা মনে করা হত। আজ সেখানে অনেক হিপ হপ শিল্পীর বাস৷
দৈনন্দিক জীবনে ইভা বি
কিন্তু ইভা কি এভাবেই গাইবেন হিজাবের আড়ালে? ইভার এতে কোনও আপত্তি নেই। তাঁর সোজা কথা, মিডিয়া আমাকে ছেড়ে আমার হিজাবের দিকেই ফোকাস করতে চায়।
ইভা আনন্দিত এই ভেবে যে, হিজাব পরিহিত একটি মেয়ে মিডিয়ার মূলস্রোতে এমন দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন দেখে বহু নারী অনুপ্রাণিত হয়েছেন।
ইভার গানে উঠে আসে পাকিস্তানে মেয়েদের জীবন, ধনী-গরীবের বৈষম্য, এমনকি স্থানীয় দুর্নীতির বিষয়গুলোও।
একাত্তর/আরবিএস