অঞ্চল ছাপিয়ে দেশ, দেশ ছাপিয়ে ভিনদেশ। ফাঙ্কি মিউজিক আর র্যাপের মিশেলে আঞ্চলিক গান ‘মুড়ির টিন’ পৌঁছে গেছে কলকাতা, পাঞ্জাব- এমনকি জার্মানিতেও।
এর মাঝেই ইউটিউবে এক কোটি ভিউ হওয়া ‘কোক স্টুডিও’র গানটি এখন লাখো শ্রোতার মুখে মুখে। শিল্পী রিয়াদের লিরিক আর সুরে গানের সংগীত পরিচালনা করেছেন শুভেন্দু দাস শুভ।
মূল গল্পটা রিয়াদ হাসানের। গল্পটা চট্টগ্রামের আদি নাগরিক সংস্কৃতির। গল্পটা এখন লাখো সংগীত প্রেমীর। এই গান নিয়েই চট্টগ্রামের কালুরঘাটে শৈশব কাটানো রিয়াদ আজ পৌঁছে গেলেন সুদূর।
কেমন করে তৈরি হলো ‘মুড়ির টিন’, সে কথা জানতে চাইলে গানটির গায়ক ও গীতিকার রিয়াদ হাসান বলেন, যাত্রাটা আসলে অনেক আগে শুরু হয়েছে। ২০০৮-০৯ সালে আমি যখন চট্টগ্রামে ছিলাম, তখন জিইসি মোড় নামে একটা গান বানিয়েছিলাম।
তিনি বলেন, গান লেখার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে চট্টগ্রামের দুজন ফোক আর্টিস্ট শ্যামসুন্দর বৈষ্ণব ও শেফালি ঘোষ। তাদের গানে যাপিত জীবন ও আঞ্চলিক নানা বিষয় ছিল। আমার তখন মনে হয়েছিল এমন গান হতে পারে।
রিয়াদ আরও যোগ করেন, তারপর আমি চট্টগ্রামের ভাষায় গান লিখতে শুরু করি। এমন বিষয় নিয়ে লেখার চেষ্টা করেছি, যার সঙ্গে মানুষ নিজেকে যুক্ত করতে পারবে। ২০১৪ সালে আমার প্রথম অ্যালবাম মুক্তি পায়। সেখানে একটা গান ছিল ‘ডিজিটাল ফোয়া’ (ডিজিটাল ছেলে)।
এসব সে সূত্রে কোক স্টুডিওতে ডাক পান তিনি। কোক স্টুডিওর সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে মুড়ির টিনের ভাবনা রিয়াদ হাসানের মাথায় আসে। কালুরঘাটের মতো একটি উপশহরে তিনি নিজে ছিলেন এবং সেখানকার বাসযাত্রা দেখেছেন।
তাই যেখানে সেখানে দাঁড়িয়ে যাওয়া, গাদাগাদি, যাত্রীর চেঁচামেচি এসব বিষয় নিয়ে গান লেখেন তিনি। এরপর তৈরি হয় গানটি। চট্টগ্রামের ভাষার সঙ্গে আরও দুই আঞ্চলিক ভাষাকে যুক্ত হয়।
এ নিয়ে রিয়াদ বলেন, অর্ণবদা ছিলেন আমাদের সঙ্গে। আমাদের প্রিয় একজন মিউজিশিয়ান। সব কিছু মিলিয়ে তিনি একটা আইডিয়া দিলেন, আরও দুটো আঞ্চলিক ভাষা গানটির সঙ্গে যুক্ত করা যায়। ওই সূত্র ধরে সিলেট ও খুলনার ভাষা এলো র্যাপ আকারে।
গানের সংগীত পরিচালনা করেছেন শুভেন্দু দাস শুভ। মুড়ির টিনের সংগীত পরিচালনা ও গানটি তৈরি হওয়া নিয়ে তিনি বলেন, মুড়ির টিন তো প্রচলিত অন্য গানের মতো না। রিয়াদ এটা লিখেছে। এরপর অন্য কোনো ভাষা যোগ করার আইডিয়া দিয়েছিলেন অর্ণবদা।
তিনি বলেন, আমরা কিছু সূত্রে পল্লবের খোঁজ পাই। তাকে যুক্ত করা হয়। চট্টগ্রামের ভাষায় মূল গানটির সঙ্গে মিল রেখে সিলেটি অংশটা লেখা হয়। সিলেটের কিছু বিশেষ বিষয় এসেছে। আঞ্চলিকতার পাশাপাশি গানে একটা দর্শনের জায়গাও আছে। এরপর যুক্ত হয় খুলনার ভাষা, যেটা করেছেন তৌফিক আহমেদ।
কান্ট্রি মিউজিকের ছায়ায় গানটির ভিজুয়াল এক কথায় দুর্দান্ত। রিয়াদ-শুভ কৃতিত্বটা দিয়েছেন কোক স্টুডিওকে। শায়ান চৌধুরী অর্ণবের অভিজ্ঞতার মুনশিয়ানায় রিকশা আর্ট ও ফোক মোটিফে কত বৈচিত্র্য যুক্ত হয়েছে গানটির ভিজুয়ালাইজেশনে। সুরের কোন মানচিত্র হয় না।
তাই রিয়াদের গানটি আজ মানচিত্র ছাপিয়ে তাইতো বহুদূর। ১৪ ফেব্রুয়ারি গানটি প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই তুমুল জনপ্রিয় হয়েছে। প্রথম ছয়দিনে গানটির ইউটিউবে ভিউ ৫১ লাখ। বাস, যাত্রী, ড্রাইভার, হেল্পার মিলিয়ে বাসযাত্রার একটা চিত্র উঠে এসেছে এই গানে।
একাত্তর/এসজে