সরকারের চলচ্চিত্র অনুদান নীতিমালা অনুযায়ী, অনুদান পাওয়ার ৯ মাসের মধ্যে সিনেমা মুক্তি দেওয়ার কথা। এমন বাধ্যবাধকতা থাকলেও কোনো কোনো সিনেমার নির্মাণকাজ ৯ বছরেও শেষ করতে পারেননি অনেক নির্মাতা। অনেকে আবার সিনেমার নির্মাণ কাজ শেষ করলেও মুক্তি দেননি প্রেক্ষাগৃহে। এনিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বারবার।
অনুসন্ধানে জানা যায়, জয়া আহসানের ‘বিউটি সার্কাস’ ছবির শুটিং শুরু হয় ২০১৬ সালে। নানা কারণে ছবিটির শুটিংয়ে বেশ কয়েকবার বিঘ্ন ঘটে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সরকারি অনুদানে পাওয়া মাহমুদ দিদার পরিচালিত ‘বিউটি সার্কাস’ এত বছর পেরুলেও আজও মুক্তি পায়নি।
এ প্রসঙ্গে ‘বিউটি সার্কাস’ সিনেমার নির্মাতা মাহমুদ দিদার বলেন, আমার সিনেমার গল্পের প্রয়োজনেই শীতকাল দরকার ছিলো। শীতকালেই আমি শুটিং করেছি। এছাড়া সিনেমাটা আসলে বড়ো আয়োজনের সিনেমা। শুধু অনুদানের টাকায় এই সিনেমা সম্ভব নয়, তাই আমাকে স্পন্সর, প্রডিউসার খুঁজতে হয়েছে। ইত্যাদি নানা কারণেই সিনেমার শুটিং শেষ করতে দেরি হলেও ইতিবাচক খবর হচ্ছে সিনেমা শেষ হয়েছে। মিউজিক ভি এফ এক্সের কাজ চলছে। প্যান্ডেমিক পরিস্থিতি দেখে মুক্তির তারিখ ঠিক করবো এবং অবশ্যই এটা সিনেমা হলে যাবে তারপর অন্য জায়গায়ায়।
২০১৩-১৪ অর্থবছরে অনুদান পাওয়া সিনেমার মধ্যে ড্যানি সিডাক পরিচালিত ‘কাঁসার থালায় রুপালি চাঁদ’ মুক্তি পায়নি আজও। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে নূরুল আলম আতিক পরিচালিত ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’, এন রাশেদ চৌধুরী পরিচালিত ‘চন্দ্রাবতী কথা’ মুক্তি পায়নি এখনও।
এদিকে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে সরকারি অনুদান পাওয়া মনজুরুল ইসলাম মেঘের ‘বিলডাকিনি’ সিনেমাটির শুটিং এখনো শুরুই হয়নি। অথচ পেরিয়ে গেলো এক বছর।
‘বিলডাকিনি’ সিনেমার নির্মাতা মনজুরুল ইসলাম মেঘ বললেন, আমার সিনেমার বেশ কয়েকটি দৃশ্যে ভিড় দরকার, প্রচুর মানুষ দরকার। আর করোনার এই সময়ে এতো মানুষ পাবো কোথায়? পেলেও এই সময়ে এতো মানুষ নিয়ে শুটিং করা ঠিক হবে না। করোনার প্রকোপ কমলেই শুটিং শুরু করবো।
আরও পড়ুন: দুইদিনে দেশে আসছে মডার্না ও সিনোফার্মের ৪৫ লাখ ডোজ টিকা
২০১০-১১ অনুদানপ্রাপ্ত ফারুক হোসেনের ‘কাকতাড়ুয়া’ ছবির সর্ম্পূণ শুটিং শেষ হয়েছে আট বছর আগে, অথচ এখনও মুক্তি পায়নি কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ছবিটি।
একাত্তরকে ফারুক হোসেন জানান, অনুদান পাওয়ার পরে আমি ব্যক্তিগত জীবনে নানা সমস্যার সম্মুক্ষীণ হয়েছি। হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, স্ত্রী, মা এবং বোন মারা গেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে এতো বিপত্তির মধ্যেও আমি সিনেমাটির শুটিং শেষ করেছি থার্টি ফাইভ ক্যামেরায়। এখন সেটা ডিজিটালে কনভার্ট করতে হলো। এছাড়া এফডিসি আমার কাছে কিছু টাকা পায়। এই টাকা মওকুফ করলে খুব সহজেই আমি সিনেমাটা মুক্তি দিতে পারবো।
২০১১-১২ অর্থবছরে মারুফ হাসান আরমানের ‘নেকড়ে অরণ্যে’, প্রশান্ত অধিকারীর ‘হাডসনের বন্দুক’,টোকন ঠাকুরের ‘কাঁটা’, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে জানেসার ওসমানের ‘পঞ্চসঙ্গী’ ছবিগুলো আলোর মুখ দেখবে কিনা তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।
সর্বশেষ ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে কবরীর ‘এই তুমি সেই তুমি’, মীর সাব্বিরের ‘রাতজাগা ফুল’, হোসেন মোবারক রুমীর ‘অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া’, হৃদি হকের ‘১৯৭১ সেই সব দিন’, শমী কায়সারের ‘স্বপ্ন মৃত্যু ভালোবাসা’ ও আকরাম খানের ‘নকশি কাঁথার জমিন’। বছর ঘুরলেও এই ছবিগুলোর একটিও মুক্তি পায়নি সিনেমাহলে, এমনকি কোন কোন ছবির শুটিংও সম্পূর্ণ শেষ হয়নি।
একাত্তর/এসি