সিনেমার মহাগুরু জ্যঁ-লুক গদারের অন্যতম পাঁচ সিনেমা

সিনেমা ও জ্যঁ-লুক গদার এক সুতোয় গাঁথা দুটি নাম। জ্যঁ-লুক গদার এমন একটি নাম যিনি চলচ্চিত্রকে দিয়েছিলেন নতুন সংজ্ঞা। তিনি চলচ্চিত্রের গদবাধা সব নিয়মকে উপেক্ষা করে বানাতেন তার অসাধারন সব সিনেমা। তাকে নিয়ে ইংরেজ লেখক পিটার ব্রাডশ বলেছিলেন, 'গদার যেন ব্যাকরণ বইকে ছিড়ে কুটিকুটি করে ফেললেন, ব্যাকরণ না পড়েই।' ওয়াইল্ড ডিগ্রেশন, লং টেইক শট, অফবিট সংলাপ, অন লোকেশন শ্যুটিং, ডিপ ফোকাস ও জাম্প-কাট নিয়ে গদার সিনেমাকে দিলেন অন্যরকম রূপ।

১৯৩০ সালের ৩ ডিসেম্বর প্যারিসে জন্মগ্রহণ করেন জ্যঁ-লুক গদার। প্রথমে পড়া শুরু করেন গণিত নিয়ে। এরপর গনিত ছেড়ে এথনোলজি নিয়ে পড়া শুরু করেন। মূলত চলচ্চিত্রে তার যাত্রা শুরু সমলোচক হিসেবে। ৩০ বছর বয়সে বানালেন তার কালজয়ী সিনেমা ‘ব্রেথলেস’। যে সিনেমা ষাটের দশকের নিউ ওয়েভ ধারণাকে পরিপূর্ণ রূপ দিয়েছিলো। আজ চলচ্চিত্রের এই মহাগুরুর পাঁচটি সিনেমা সম্পর্কে জানবো।

ব্রেথলেস

একজন চোর প্রেমিক, যে তার চুরিকরা গাড়ির চাপা দিয়ে এক পুলিশকে হত্যা করে। তারপর সে পালিয়ে প্যারিসে তার প্রেমিকার কাছে যায়। তার প্রেমিকা ছিলেন সাংবাদিক। সে ইতালি পালিয়ে যাওয়ার জন্য টাকা জোগাড়ের সময়ে জানতে পারে, তার প্রেমিক খুব তাড়াতাড়ি পুলিশের হাতে পড়তে যাচ্ছে। এবার প্রেমিকার মনে দানাবাধে তাদের মধ্যকার বিশ্বস্ততা সবকিছু নিয়ে। এক করুণ বিশ্বাসঘাতকতার মধ্য দিয়ে সিনেমার গল্প শেষ হয়। এই চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়েই গদারের জাম্প কাটের আইকনিক ব্যবহার প্রবর্তন হয়।

মাসকুলিন ফেমিনিন

এটি একটি ডকুমেন্টারি শৈলীতে চিত্রায়িত সিনেমা। এই চলচ্চিত্রে আমরা তৎকালীন সমসাময়িক যুব সংস্কৃতির দর্শন খুঁজে পাই। এই সিনেমায় দেখা যায় যুবক-যুবতীরা প্রেম, যৌনতা, কাজ এবং ভোগবাদের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে।

টু ওর থ্রি থিংস আই নো এবাউট হার

এই সিনেমায় আমরা চলচ্চিত্রের একটি বৈপ্লবিক ফরম্যাট দেখতে পাই। সিনেমাটি ডকুমেন্টারি ফর্মে আমাদের ভোগবাদী সমাজের পরিণতি এবং মহিলাদের প্রতি যৌন আচরণে রাজনীতির মতো বিষয়গুলোকে তুলে ধরে। এই সিনেমায় গদার সমসাময়িক সংস্কৃতির উপর তার চিন্তাভাবনা এবং অনুভূতির কথা বলেছেন। এখানে অনেক দৃশ্য ইম্প্রোভাইজ করা হয়েছিল, অভিনেতাদের তাদের মনে যা ছিল তা নিয়ে নির্দ্বিধায় বলতে উৎসাহিত করা হয়েছিল। যার ফলে সততা ও প্রতিফলনের অনুভূতি তৈরি হয়েছিলো।

লে পেটিট সোল্ডাত

লে পেটিট সোল্ডাতে গদার আলজেরিয়ান যুদ্ধ নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন, যা তৈরির পর নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এই সিনেমায় তিনি যুদ্ধকালীন সময়ে নাগরিকদের উপর নির্যাতনের সত্য দৃশ্যগুলো চিত্রিত করেছিলেন যার ফলে এটি ফ্রান্সে তিন বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। এই সিনেমায় আনা কারিনা ও মিশেল সুবরে অভিনয় করেছেন। লে পেটিট সোল্ডাতে দেখা যায়, একজন যুবক যে যুদ্ধে তালিকাভুক্তি এড়াতে চেষ্টা করে। যুদ্ধে সে যুবককে মানুষ হত্যা করতে বাধ্য করা হয় এবং যখন সে অবাধ্য হওয়ার চেষ্টা করে তখন তাকে করা হয় নির্যাতন।

আলফাভিল

এই সিনেমাটি একসাথে সায়েন্স ফিকশন, ফিল্ম নোয়ার ও ডিস্টোপিয়ান জনরার চলচ্চিত্র বলা হয়। আলফাভিল দিয়ে আমরা গদারের দার্শনিক চিন্তার প্রকাশ দেখতে পাই। চলচ্চিত্রটি  আমাদের এমন এক জায়গায় নিয়ে যায়, যেখানে মুক্তচিন্তা, প্রেম ও কবিতাকে বিলুপ্ত করা হয়েছে।