জেল থেকে মুক্ত হয়েই আবারো সংবাদের শিরোনাম হচ্ছেন পরীমনি। গণমাধ্যমে খবর আসে পরীমনি নিজ ঘরে ফিরতেই বাসাটি ছেড়ে দেওয়ার নোটিশ পেয়েছেন বাড়িওয়ালার কাছ থেকে। এমন খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় হতাশা ব্যক্ত করে পরীমনি বলেন, আমি এখন বাসা পাবো কোথায়? থাকি বৃদ্ধ নানাকে নিয়ে। আমার তো আর কেউ নেই।
বুধবার রাত ৯টার দিকে গণমাধ্যমকে ফোন করে পরীমনি জানালেন, গণমাধ্যমে সংবাদটি যেভাবে এসেছে সেটা ঠিক নয়, বাড়িওয়ালার সাথে তার সামান্য ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।
নিজের বাড়িওয়ালার পক্ষ নিয়ে পরীমনি বলেন, 'আমার বাড়িওয়ালা আন্টি আমাকে কী পরিমাণ আদর করেন এবং সাপোর্ট দেন সবসময়, সেটা আসলে বলে বুঝানো যাবে না। আমি এই বাসায় আজীবন থাকলেও তিনি আমাকে বেরিয়ে যেতে বলবেন না। আমার তো মা নেই, আমি তাকে সেভাবেই দেখেছি সবসময়। কিন্তু বাসায় ঢুকেই যখন ছাড়ার কথাটি শুনলাম- তখন আমি আসলে হতাশ হয়ে পড়ি।'
পরী আরও বলেন, 'পরে আমি বাড়িওয়ালা আন্টির সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পারি আসল ঘটনা। উনারা আসলে আমাকে সে অর্থে বাসা ছাড়তে বলেননি। আন্টি আমাকে বললেন, গত এক মাস ধরে প্রতিদিন যেভাবে গণমাধ্যমকর্মী, মোবাইল হাতে ভক্ত, ইউটিউবার আর প্রশাসনের লোকরা এখানে ভিড় করছেন, তাতে করে বাড়ির অন্য সদস্যদের স্বাভাবিক জীবন দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সে জন্য অনেক ফ্ল্যাট মালিক ও ভাড়াটিয়াদের খানিক অভিযোগও রয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে তো অন্যদের জন্য কষ্টকর হয়ে যায়।
বাড়িওয়ালার কথাকে সঠিক উল্লেখ করে পরীমনি আরও বলেন, 'আন্টির এই কথাগুলো একদম সত্যি। এবং আমি নিজেও সিকিওর না এই বাসাতে। কারণ, পৃথিবীর অর্ধেক মানুষ এখন এই বাসার ঠিকানা জানে। ফলে আজ হোক কাল হোক আমাকে ঠিকানাটা বদলাতেই হবে।'
পরীমণি জানান তিনি নিজেও এই বাসায় থাকার জন্য আর আগ্রহী নন। তবে এখনই সেটি ছাড়ছেন না।
পরীমনি বলেন, 'আমি এই বাসাটা হয় তো ছাড়বো, কারণ আমি নিজেও স্বস্তি ফিল করছি না। জানালা দিয়ে উঁকি দিলেই দেখি অসংখ্য অচেনা মানুষ মোবাইল হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ফলে এটা আমার জন্য খুবই বিপদজনক ও বিব্রতকর। আমার জন্য অন্য মানুষদের স্বাভাবিক জীবন নষ্ট করতে পারি না। তাই তিন/চার মাস পর এই বাসাটা ছাড়ার পরিকল্পনা করছি। কারণ, এখানে থাকলে আমার এবং প্রতিবেশী- উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর।'
পরীমনি তার ভক্ত ও মিডিয়াকর্মীদের অনুরোধ করেন তার যেন পরীমনির বাসার সামনে এসে ভিড় না জমান।