বাংলা সাহিত্যের নন্দিত কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১২ সালের এই দিনে চিরবিদায় নেওয়া এই কিংবদন্তিকে স্মরণ করতে ভোর থেকেই গাজীপুরের নুহাশপল্লীতে ঢল নামে পরিবার, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো ভক্তের। ফুলেল শ্রদ্ধা, স্মৃতিচারণ আর দোয়ার মাধ্যমে প্রিয় লেখককে স্মরণ করেন সবাই।
নুহাশপল্লীর সবুজ নিস্তব্ধতায় ভোরের আলো ফোটার পর থেকেই সমাধি প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে। শ্বেতপাথরের সমাধিটি ভরে যায় ভক্তদের আনা ভালোবাসার অর্ঘ্যে। কারো হাতে ছিল প্রিয় লেখকের প্রিয় ফুল, কারো হাতে তার লেখা কালজয়ী কোনো বই।
হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্যে হিমু, মিসির আলি ও শুভ্রর মতো অবিস্মরণীয় সব চরিত্রের জন্ম দিয়েছেন। 'নন্দিত নরকে', 'শঙ্খনীল কারাগার' কিংবা 'জোছনা ও জননীর গল্প'-এর মতো উপন্যাস দিয়ে তিনি জয় করেছেন কোটি পাঠকের হৃদয়। শুধু সাহিত্যেই নয়, 'কোথাও কেউ নেই' বা 'আজ রবিবার'-এর মতো তুমুল জনপ্রিয় নাটক এবং 'আগুনের পরশমণি' ও 'শ্রাবণ মেঘের দিন'-এর মতো চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি মধ্যবিত্তের জীবনকে পর্দায় জীবন্ত করে তুলেছেন।
দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভক্তরা জানান, প্রিয় লেখকের লেখা তাদের দিয়েছে সাহিত্যের নিপট আনন্দ। তার নাটক মধ্যবিত্ত জীবনকে বড় করেছে।
দিবসটি উপলক্ষে দিনভর নানা আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় এ কথাসাহিত্যিক ও চলচ্চিত্রকারের পরিবারের সদস্যরা।
তার স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন বলেন, নতুন প্রজন্মের হাতে তার বই আর সৃষ্টির প্রতি মানুষের অটুট ভালোবাসাই তাকে বাঁচিয়ে রাখবে।
সময়ের দূরত্ব বাড়লেও হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্টি আজও নতুন পাঠক আর নতুন দর্শক খুঁজে পায়। প্রতি বছরের মতো এবারও নুহাশপল্লীর এই আয়োজন যেন মনে করিয়ে দিল—একজন লেখকের জীবন থেমে যেতে পারে, কিন্তু তার গল্পের পথচলা থামার নয়।