বলিউডে রণবীর সিংয়ের বহুল চর্চিত 'ধুরন্ধর' ফ্রাঞ্চাইজি নিয়ে এবার জলঘোলা করলেন ভারতের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও প্রবীণ কংগ্রেস সংসদ সদস্য শশী থারুর। আদিত্য ধর পরিচালিত এই ফ্রাঞ্চাইজির মেকিং, অভিনয় আর বিশাল ক্যানভাসের ভূয়সী প্রশংসা করলেও,সিনেমার চরম সহিংসতা, বীভৎস দৃশ্য এবং রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা নিয়ে বেশ ভালোভাবেই ধুয়ে দিয়েছেন তিনি!
নিজের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক ভিডিও পর্যালোচনায় শশী থারুর জানান, ৮ ঘণ্টার এই দীর্ঘ সিনেমাটিক জার্নি তাঁর কাছে দারুণ বিনোদনমূলক মনে হয়েছে। বিশেষ করে প্রথম পর্বের চেয়ে দ্বিতীয় পর্ব ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ তাঁকে বেশি টেনেছে। তবে সিনেমার অতিরিক্ত রক্তপাত ও সহিংসতা একেবারেই মেনে নিতে পারেননি এই সাহিত্যিক-রাজনীতিবিদ।
সিনেমার অ্যাকশনকে চরমমাত্রায় 'বাজে ও অতিরঞ্জিত' আখ্যা দিয়ে থারুর বলেন, হলিউড কিংবা ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসেও এত জঘন্য, বিকৃত ও বীভৎস হিংস্রতার দৃশ্য খুব কমই দেখা গেছে। এত রক্তপাত আর নৃশংসতা দেখানোর একেবারেই কোনো প্রয়োজন ছিল না।
শুধু সহিংসতাই নয়, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে সিনেমার অবস্থানকেও কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্য ও পাকিস্তানে সিনেমাটি নিষিদ্ধ হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে থারুর মন্তব্য করেন, সিনেমার ভেতরে স্পষ্ট প্রোপাগান্ডা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। দুটি দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে অহেতুক তিক্ততা তৈরি করতেই এমন চিত্রনাট্য। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বা পাকিস্তানে এটি কেন নিষিদ্ধ হয়েছে, তা বুঝতে অসুবিধা হয় না।
ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির গোপন অপারেশনের বাস্তবচিত্র নিয়েও খোলামেলা বক্তব্য রেখেছেন এই সাংসদ। গুপ্তচর জাসকিরাত সিং রাঙ্গির (রণবীর সিং) কার্যকলাপকে বাস্তব থেকে অনেকটাই দূরে কল্পনাপ্রসূত বলে মনে করেন তিনি। পাশাপাশি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের জীবন থেকে অনুপ্রাণিত আর মাধবনের চরিত্রটি ৯০-এর দশক থেকে আজ পর্যন্ত একই পদে বহাল থাকাটাকেও কিছুটা 'বাস্তববিবর্জিত হাস্যকর' বলে মনে হয়েছে তাঁর।
তবে এতসব বিতর্কের পরেও সিনেমার মেকিং, বিশাল সেট, পরিচালনা আর অভিনয়শিল্পীদের ভূয়সী প্রশংসা করতে ভোলেননি থারুর। তিনি স্পষ্টই জানান, হাজারো খামতি ও অতিরিক্ত রক্তপাতের পরেও আট ঘণ্টা শেষে দর্শক হিসেবে আপনি এক রাজকীয় এবং বিশাল সিনেমাটিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই যাবেন!
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি