বলিউডের ‘আইটেম কুইন’ নোরা ফাতেহি মানেই পর্দায় উষ্ণতা আর শরীরি হিল্লোল। কিন্তু এবার সেই উষ্ণতা হিতে বিপরীত হয়ে দাঁড়িয়েছে। নোরার নতুন আইটেম গান ‘সরকে সরকে’ নিয়ে শুরু হয়েছে চরম হট্টগোল। অশ্লীল লিরিক্সের অভিযোগে গানটির হিন্দি সংস্করণটি ইন্টারনেট থেকে সরিয়ে ফেলা হলেও বিতর্ক থামছে না। এই মুখরোচক বিতর্কে মেতে উঠেছেন নেটিজেনরা।
মুক্তির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিতর্কের দাবানলে ভস্মীভূত হলো নোরা ফাতেহি ও সঞ্জয় দত্তের নতুন গান ‘সরকে চুনর তেরি সরকে’। ‘কেডি: দ্য ডেভিল’ ছবির এই ডান্স নিয়ে এতটাই তোলপাড় শুরু হয়েছে যে, শেষ পর্যন্ত এটি ইউটিউবসহ সব প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন নির্মাতারা। কিন্তু চমকপ্রদ তথ্য হলো- হিন্দি ভার্সনটি নিষিদ্ধ হলেও কন্নড়, তামিল, তেলুগু এবং মালয়ালম ভাষায় গানটি রাজত্ব করছে।
অভিযোগ উঠেছে, গানটির কথা এবং নোরার অঙ্গভঙ্গি অত্যন্ত ‘কুরুচিপূর্ণ, যৌন উদ্দীপক এবং অশ্লীল’। গত ১৪ মার্চ গানটি মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় ওঠে। ১৭ মার্চ অ্যাডভোকেট বিনীত জিন্দাল সরাসরি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সেন্সর বোর্ডে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর দাবি, এই গান নাবালকদের মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং পকসো আইনের ধারা টেনে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে নাটকীয় মোড় এসেছে যখন হিন্দি লিরিসিস্ট রকিব আলম মুখ খুলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই গানের অশ্লীলতার জন্য তিনি দায়ী নন। রকিবের দাবি, এই গানটি ছবির পরিচালক প্রেম নিজে কন্নড় ভাষায় লিখেছিলেন। আমি এটি লিখতে চাইনি, কিন্তু পরিচালক আমাকে আক্ষরিক অনুবাদ করতে বাধ্য করেছেন। তিনি বিতর্কের জন্যই এমনটা চেয়েছিলেন। রকিব আরও জানান, তিনি পরিচালককে আগেই সতর্ক করেছিলেন, এই লিরিক্স সেন্সর বোর্ডে টিকবে না, কিন্তু পরিচালক তাতে কান দেননি।
মজার বিষয় হলো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, কন্নড় (মূল ভার্সন), তামিল বা মালয়ালম ভাষায় গানের যে কথাগুলো রয়েছে, তার অর্থও হুবহু হিন্দির মতোই ‘আপত্তিকর’। অথচ দক্ষিণ ভারতের সংস্করণগুলো ইউটিউবে কোটি কোটি ভিউ কুড়াচ্ছে। এমনকি রেকর্ড লেবেল ‘আনন্দ অডিও’ ইনস্টাগ্রামে ১০ মিলিয়ন ভিউর উৎসবও পালন করছে। প্রশ্ন উঠেছে- অশ্লীলতা কি শুধু হিন্দি ভাষার জন্যই প্রযোজ্য?
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে একজন ইউজার লিখেছেন, নোরা ফাতেহির এই গান অশ্লীলতার সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে! অন্য একজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ভারতে কি সেন্সর বোর্ড বলে কিছু নেই? এই ধরণের গান মূলধারায় আসে কীভাবে? শিশুদের রিলস ট্রেন্ডে এই ধরণের গানের ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।
নোরা ফাতেহির গ্ল্যামার আর ডান্স মুভস সবসময়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে, কিন্তু এবার ‘সরকে সরকে’ গানটি রুচির সীমা অতিক্রম করেছে বলে মনে করছে সাধারণ মানুষ। এক ভাষায় নিষিদ্ধ হলেও অন্য ভাষায় প্রচার চালিয়ে যাওয়ার এই ‘দ্বিমুখী’ নীতি এখন চলচ্চিত্র অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া ও এনডিটিভি