মাঠের লড়াইয়ে ব্রাজিলের মতো পরাশক্তিকে রুখে দিয়ে বিশ্বকাপে হইচই ফেলে দিয়েছে মরক্কো জাতীয় ফুটবল দল। তবে মাঠের সেই তুমুল উত্তেজনার মাঝেই এবার বিনোদন আর ক্রীড়াঙ্গনের এক চরম মুখরোচক প্রেমের গুঞ্জনে তোলপাড় চলছে বিশ্বজুড়ে। একদিকে ফুটবলবিশ্বের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার মরক্কোর মহাতারকা আশরাফ হাকিমি, আর অন্যদিকে বলিউডের আইটেম গান কাঁপানো ‘ড্যান্স কুইন’ নোরা ফাতেহি! গ্যালারির ফুটবল আর পর্দার বেলি ড্যান্সের এই দুই গ্ল্যামারাস দুনিয়ার বাসিন্দাদের কি তবে গোপনে মন দেয়া-নেয়া হয়ে গেছে? বিশ্বকাপের আবহে এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে অনুরাগীদের মনে।
হাকিমি-নোরার সম্ভাব্য রসায়নের গল্পটি কিন্তু আজকের নয়। আন্তর্জাতিক বিনোদন মাধ্যমগুলোর দাবি, এই প্রেমের গুঞ্জনের সূত্রপাত হয়েছিল গত ২০২৫ সালে। সেবার মরক্কোর মাটিতে বসেছিল ‘আফ্রিকান কাপ অব নেশনসের আসর। সেই টুর্নামেন্টে মরক্কোর একটি হাইভোল্টেজ ম্যাচে গ্যালারিতে আচমকাই ক্যামেরার আলো কেড়ে নেন নোরা ফাতেহি। কোনো বলিউডি আয়োজন ছাড়াই নোরার এমন মরক্কো প্রীতি দেখে তখনই নেটিজেনদের চোখ কপালে উঠেছিল। ফিসফাস শুরু হয়, তবে কি গ্যালারিতে বসে পিএসজি তারকা আশরাফ হাকিমিকে সমর্থন দিতেই সাতসমুদ্র তেরো নদী পার হয়ে ছুটে এসেছিলেন নোরা?
সেই গুঞ্জনের আগুনে ঘি ঢেলে দেয় সামাজিক মাধ্যমের একটি ছোট্ট ঘটনা। সাইবার দুনিয়ার গোয়েন্দা খ্যাত ভক্তরা লক্ষ্য করেন, নোরা ফাতেহির একটি বেশ আবেদনময়ী ইনস্টাগ্রাম পোস্টে ভার্চুয়াল আঙুলের ছোঁয়া দিয়েছেন স্বয়ং আশরাফ হাকিমি, অর্থাৎ ‘লাইক’ ঠুকেছেন! ব্যস, এরপরই জল্পনা-কল্পনার পারদ আকাশ ছুঁয়েছে। ভক্তদের দাবি, এটা শুধু ফুটবলপ্রেম নয়, এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো ‘ব্যক্তিগত’ টান।
তাছাড়া নোরার পারিবারিক ইতিহাসও গুঞ্জনকে উসকে দিচ্ছে। নোরা কানাডায় জন্মগ্রহণ করলেও তাঁর পারিবারিক শেকড় কিন্তু উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কোতেই। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে নোরাকে মরক্কোর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি গভীর অনুরাগ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। অন্যদিকে হাকিমিও মরক্কোর রাজপুত্র। ফলে দুজনের এই ‘মরক্কান কানেকশন’ ভক্তদের কৌতূহলকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রেমের এই রঙিন গল্প চারদিকে ছড়ালেও এর পেছনে কতটা সত্যতা আছে, তা নিয়ে এখনও বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন রয়েছে। কারণ এখন পর্যন্ত নোরা ফাতেহি কিংবা আশরাফ হাকিমি, কেউই এই সম্পর্ক নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন, আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেননি। এমনকি পাপারাজ্জিদের ক্যামেরাতেও দুজনকে কখনও গোপনে ডেট করতে বা একসাথে দেখা যায়নি। ফলে এই রসালো গল্পটি এখনও কেবলই গুঞ্জনের পাতায় বন্দি।
এদিকে ব্যক্তিগত জীবনের এসব গুঞ্জন একপাশে সরিয়ে রেখে ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে আছেন নোরা। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে প্রকাশিত অফিশিয়াল অ্যান্থেম ‘সির সির’-এ তাঁর পারফরম্যান্স আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সেই ঝলমলে উপস্থিতি নোরার বৈশ্বিক জনপ্রিয়তাকে এক ধাক্কায় অনেক উঁচুতে নিয়ে গেছে।
অতীতেও বহু তারকার সাথে নাম জড়িয়ে নানা মুখরোচক খবরের জন্ম হয়েছে নোরাকে নিয়ে, যা নিয়ে একাধিকবার পরোক্ষভাবে বিরক্তিও প্রকাশ করেছেন এই ড্যান্স ডিভা। তবে বিশ্বকাপের এই চরম উন্মাদনার মৌসুমে হাকিমি আর নোরার এই অফ-স্ক্রিন ‘লাভ স্টোরি’ ফুটবল আর বিনোদনপ্রেমীদের যে দারুণ এক খোরাক জুগিয়েছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না!