২০২২ সালে মায়ানগরী মুম্বাইকে কাঁপিয়ে দেওয়া সেই মাদক মামলায় অবশেষে বড়সড় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল বলিউড। দীর্ঘ কয়েক বছরের টানাপোড়েন আর কাটাছেঁড়ার পর মুম্বাই পুলিশের অ্যান্টি নারকোটিকস সেল (এএনসি) জানিয়ে দিয়েছে, অভিনেত্রী শ্রদ্ধা কাপুর, ড্যান্সিং কুইন নোরা ফাতেহি এবং সোশ্যাল মিডিয়া সেনসেশন ওরহান আওয়াত্রামানি ওরফে ‘ওরি’র বিরুদ্ধে মাদক যোগের কোনো শক্ত প্রমাণ মেলেনি। ফলে আসন্ন সম্পূরক চার্জশিট থেকে তাঁদের নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনা এখন শতভাগ।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২২ সালে, যখন ১ কোটি ১৯ লাখ রুপির ড্রাগসহ নামী মাদক পাচারকারী মোহাম্মদ সলিম শেখ পুলিশের জালে ধরা পড়েন। দুবাই ও মুম্বাইয়ের হাই-প্রোফাইল রেভ পার্টিতে মাদক সরবরাহের অভিযোগে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি জিজ্ঞাসাবাদের মুখে একের পর এক বড় নাম উগরে দিয়েছিলেন।

সেই তালিকায় শ্রদ্ধা কাপুর, তাঁর ভাই সিদ্ধান্ত কাপুর, নোরা ফাতেহি এবং ওরি’র নাম উঠে আসায় মুহূর্তেই তোলপাড় শুরু হয় বি-টাউনে। রাজনীতিক জিশান সিদ্দিকীর নামও জড়ানো হয়েছিল এই স্ক্যান্ডালে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা গেল, পুরো অভিযোগই ছিল অভিযুক্তের মৌখিক বয়ান মাত্র, যার সপক্ষে কোনো জোরালো প্রমাণ বা তথ্যসূত্র ছিল না।

ক্লিন চিট পাওয়ার খবর চাউর হতেই নিজের চিরাচরিত মেজাজে ধরা দিয়েছেন ওরি। তবে এবার রসিকতা নয়, বরং ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে মামলার প্রতিবেদন শেয়ার করে ওরি প্রশ্ন তুলেছেন সেই সব সংবাদমাধ্যম ও মানুষের দিকে, যারা কোনো তথ্য যাচাই না করেই তাঁর নাম ড্রাগ মামলার সঙ্গে জড়িয়ে দিয়েছিল। তাঁর স্পষ্ট প্রশ্ন, যাঁরা তাঁর সামাজিক ভাবমূর্তি নষ্ট করেছেন, তাঁদের জবাবদিহি এখন কে করবে? ওরি’র এই ‘পাওয়ারফুল’ রিঅ্যাকশন এখন নেট দুনিয়ায় রীতিমতো ভাইরাল।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালেও একবার এই তারকাদের কড়া জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হয়েছিল। সে সময়ও তদন্তকারীরা শূন্য হাতে ফিরেছিলেন। সবশেষ তদন্ত প্রতিবেদনে সেই অবস্থানই আরও পোক্ত হলো। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে অভিযুক্ত করা যায় না, আর এই তারকাদের ক্ষেত্রেও আইনিভাবে কোনো অভিযোগ ধোপে টেকেনি।

আলোচিত এই মাদক মামলায় ইতিমধ্যে তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে এবং শিগগিরই নতুন অভিযুক্তদের নামসহ চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা পড়বে আদালতে। তবে বড় বড় তারকাদের নাম এই ‘কাদা ছোড়াছুড়ি’ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পাওয়ায় বলিউডের গ্ল্যামার জগতে আপাতত প্রশান্তির হাওয়া বইছে। এখন দেখার বিষয়, ওরি’র তোলা সেই জবাবদিহির দায়ভার শেষ পর্যন্ত কার ঘাড়ে গিয়ে চাপে!
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া-এনডিটিভি
