দিনে ৫০ ‍রুপি আয় করা ‘যশ’ এখন ৫৩ কোটির মালিক

ভারতের দক্ষিণী সিনেমার তারকা ‘যশ’, যার ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি ছিলো তীব্র আগ্রহ । মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হওয়ায় কখনোই ছেলেকে অভিনয়ের জগতে দেখতে চাননি যশের বাবা-মা।

বাবা বাসচালক, মা সামলাতেন ঘর। একটি দোকানও ছিল তাদের। পরিবারের সবাই মিলে সেই দোকান সামলানোর কাজ করতেন। যশও পড়াশোনার পাশাপাশি দোকানে সময় দিতেন।

ছেলে সরকারি চাকরি করুক, এমনটাই চাইতেন যশের বাবা-মা। কিন্তু অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ দেখে তাকে বেঙ্গালুরু যাওয়ার অনুমতি দেন তারা। সেখানে গিয়ে মাত্র ১৬ বছর বয়সে একটি দক্ষিণী ছবির সহকারী পরিচালক হিসাবে কাজ শুরু করেন যশ। কিন্তু শুটিংয়ের দু’দিন পর ছবির কাজই বন্ধ হয়ে যায়। যশের পকেটে সে মুহূর্তে মাত্র ৩০০ রুপি ছিলো।

3

এক সাক্ষাৎকারে যশ বলেছিলেন, ‘ছবির কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আমি যদি আবার বাড়ি ফিরে যেতাম তাহলে আর কোনোদিন বেঙ্গালুরু ফিরতে পারতাম না। তাই কষ্ট করে সেখানেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।’

বেঙ্গালুরুর একটি নাটকের দলে কাজ জোগাড় করেন যশ। মঞ্চের পিছনে নানা কাজ সামলাতে হতো তাকে। প্রতিদিন ৫০ টাকা করে উপার্জন করতেন। এরপর ২০০৪ সালে প্রথম মঞ্চে অভিনয়ের সুযোগ পান।

থিয়েটারের পাশাপাশি পড়াশোনাও চালিয়ে যাচ্ছিলেন যশ। বেঙ্গালুরুর একটি কলেজে কলাবিভাগে ভর্তি হয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। এরপর ২০০৪ সালেই দক্ষিণী এক ধারাবাহিকে অভিনয়ের সুযোগ পান। পরবর্তী তিন বছর একাধিক ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করেন এই তারকা।

ধারাবাহিকে অভিনয় করার সময় সাতটি ছবির প্রস্তাব পান যশ। কিন্তু চিত্রনাট্য পছন্দ না হওয়ায় সব প্রস্তাবই ফিরিয়ে দেন তিনি। ফলে সে সময়ের দক্ষিণী ফিল্মজগতের অনেকেই যশকে ‘অহংকারী’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন।

এরপর ২০০৭ সালে কন্নড় ভাষার একটি ছবিতে প্রথম অভিনয় করেন যশ। যদিও ওই ছবিতে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি। এক বছর পর ‘রকি’ ছবির মাধ্যমে প্রথম মুখ্যচরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যায় তাকে। সেখান থেকেই একের পর এক সিনেমা।

২০১৮ সালে যশ অভিনীত ‘কেজিএফ’-এর প্রথম পর্ব বক্স অফিসে চুটিয়ে ব্যবসা করে। চার বছর পর মুক্তি পাওয়া এই ছবির দ্বিতীয় পর্বও বক্স অফিসে হিট।

এক সাক্ষাৎকারে এই ছবির নির্মাতা এসএস রাজামৌলি বলেছিলেন, যশকে তিনি সুপারস্টার ভাবেন না। তার কাছে প্রকৃত সুপারস্টার যশের বাবা। কেন এমনটা বলেছিলেন সেই নির্মাতা, সেটাও খোলাসা করেন তিনি।

রাজামৌলি বলেন, ‘যশের টাকার অভাব নেই। আমি জানতে পেরেছি তার বাবা আগে বাস চালাতেন। যশ জনপ্রিয় হওয়ার পরেও তার বাবা বাস চালিয়ে রোজগার করেন।’

2

‘কেজিএফ ২’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য যশ ২৫ থেকে ২৭ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নিয়েছেন। ফলে তার সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে দারুণভাবে। বর্তমানে তিনি ৫৩ কোটি রুপির মালিক।

ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সম্প্রতি কয়েকটি দামি গাড়ি কিনেছেন যশ। তার সংগ্রহে আছে অডি, বিএমডব্লিউ, মার্সিডিজ ও রেঞ্জ রোভারের মতো বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের গাড়ি। বেঙ্গালুরু শহরে একটি বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স বাড়িও কিনেছেন। সেই বাড়ির মূল্য ছয় কোটি রুপি। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ওই বাড়িতেই থাকেন অভিনেতা।

‘কেজিএফ’ সিনেমা যশের জীবন বদলে দিয়েছে গল্পের মতো। এর আগে তিনি একটি সিনেমার জন্য দুই থেকে তিন কোটি রুপি পারিশ্রমিক পেতেন। সেই যশ এখন কেবল বিজ্ঞাপনে মডেল হওয়ার জন্যই কোটি রুপি নিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, কিছুদিন আগে ১০ কোটি রুপির একটি বিজ্ঞাপনের প্রস্তাব ফিরিয়েও দেন!

সামনে আসতে চলেছে ‘কেজিএফ ৩’। সহজেই অনুমান করা যায়, এই সিনেমার বাজেট আগের চেয়ে আরও বেশি হবে। আর যশের পারিশ্রমিকও হয়তো ছুঁয়ে ফেলবে ৫০ কোটির মাইলফলক!