ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ৭৬তম জন্মদিন উপলক্ষে দেশজুড়ে প্রদীপ জ্বালানোর সরকারি কর্মসূচি ঘিরে ওপার বাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে চরম উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। দেশজুড়ে চলমান তীব্র বন্যা পরিস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস তোলা আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধির মাঝে শাসকদলের এমন প্রদীপ জ্বালানোর আহ্বানকে সরাসরি 'বেদনাদায়ক পরিহাস' বলে ধুয়ে দিয়েছেন ওপার বাংলার ঠোঁটকাটা ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র।
মোদী সরকার ও বিজেপির এই প্রদীপ জ্বালানোর আবদার নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মোদী ও তাঁর শাসকদলকে স্পষ্ট ভাষায় 'স্বৈরাচারী' আখ্যা দিতেও বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি এই স্পষ্টভাষী তারকা।
বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুকে একটি ঝাঁঝালো পোস্ট শেয়ার করে শ্রীলেখা মিত্র লেখেন, সাধারণ মানুষকে নাকি এখন প্রদীপ জ্বালাতে বলা হচ্ছে! আমাদের জীবনকে পুরোপুরি নরকে পরিণত করার পর এমন অবাস্তব আবদার সত্যিই এক অদ্ভুত ও বেদনাদায়ক বৈপরীত্য ছাড়া আর কিছুই নয়।
ক্ষমতাসীন দলের কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক চালকে কাঠগড়ায় তুলে তিনি আরও তোপ দাগেন যে, এক স্বৈরাচারী শাসক বা স্বৈরাচারী গোষ্ঠী সাধারণ মানুষের জীবনে চরম বিপর্যয় ডেকে আনছে, খেটে খাওয়া মানুষের জীবিকা কেড়ে নিচ্ছে, ঘরবাড়ি ও সম্পত্তি ধ্বংস করছে এবং ধর্ম ও জাতির নামে সমাজে বিভেদের বিষবাষ্প ছড়িয়ে দিচ্ছে; অথচ এরপরও তারা নিজেদের নাকি ভগবান বিষ্ণুর অবতার বলে দাবি করে!
বর্তমান ভারতের সামাজিক ও রাজনৈতিক আবহ নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলে অভিনেত্রী আক্ষেপ প্রকাশ করেন যে, দেশটা আসলে কোন দিকে যাচ্ছে? কেমন এক সমাজ এখানে গড়ে তোলা হচ্ছে যেখানে অন্ধ অনুসারীদের 'ভক্ত' বানিয়ে মহিমান্বিত করা হয়, আর শিক্ষিত কিংবা ভিন্নমত পোষণকারীদের গায়ে এঁটে দেওয়া হয় 'দিমাগি নকশাল'-এর তকমা! যে সমাজে ভয় দেখানোকেই শাসনের মূল হাতিয়ার বানিয়ে ফেলা হয়েছে এবং সত্য কথা বলা বা ভিন্নমত প্রকাশকে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে, সেই পরিস্থিতিকে শ্রীলেখা 'ঘোরতর পরিহাস' ও 'অন্ধকার যুগ' বলে তীব্র তোপ দেগেছেন।
দেশের এমন টালমাটাল পরিস্থিতিতে শাসকদলের চোখ ধাঁধানো কর্মসূচির বিপরীতে শ্রীলেখার এই সাহসী ও চাঁচাছোলা মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমতো এক নতুন আগ্নেয়গিরির জন্ম দিয়েছে। অন্তর্জালে ঝড়ের বেগে ছড়িয়ে পড়া তাঁর এই পোস্টের কমেন্ট বক্সে নেটিজেনদের এক বিশাল অংশ অভিনেত্রীর সুরে সুর মিলিয়ে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন, যা এই মুহূর্তে টলিউড থেকে শুরু করে গোটা রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।