ডলি পার্টনের কথা স্মরণ করে কাঁদলেন মাইলি সাইরাস

সঙ্গীত জগতের কিংবদন্তি তারকা ও নিজের ধর্মমাতা ডলি পার্টনের সাথে শেষ কথোপকথনের করুণ স্মৃতি শেয়ার করে কান্নায় ভেঙে পড়লেন পপ তারকা মাইলি সাইরাস। ক্যান্সার যুদ্ধের পর গত আগস্টে ৮০ বছর বয়সে পাড়ি জমান সুরের ভুবনের এই সম্রাজ্ঞী।

তার মৃত্যুর পর অ্যাপল মিউজিকের বিশেষ শো-তে উপস্থাপক জেন লো-এর মুখোমুখি হয়ে মাইলি তাদের মধ্যকার অসাধারণ ও সুগভীর সম্পর্কের অজানা গল্প শোনান, যা সঙ্গীতপ্রেমীদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।

মাইলি সাইরাস জানান, ক্যারিয়ারের প্রতিটি নতুন ভিনাইল অ্যালবাম রেকর্ড করার পর তা সবার আগে তিনি পাঠাতেন ধর্মমাতা ডলির কাছে। নিজের দশম স্টুডিও অ্যালবাম 'বাস পারসুয়েডস' মুক্তির ঠিক প্রাক্কালে সেই পুরোনো অভ্যাসের কথা বলতে গিয়েই আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করেন তিনি।

Dolly Parton 02
মাইলি স্মৃতিচারণ করে বলেন, তাদের শেষ ফোনালাপে তিনি মূলত ডলিকে তাঁর এই নতুন রেকর্ডের গল্পই শোনাচ্ছিলেন। তাদের বাহ্যিক রুচিতে অমিল থাকলেও এই ভিন্নতাই তাঁদের সম্পর্কের রসায়নকে নিখুঁত করে তুলেছিল। ডলি পার্টন তাঁর পরচুল, চড়া মেকআপ আর জমকালো ভাবমূর্তির জন্য পরিচিত হলেও তাঁর সত্যিকারের জাদু ছিল তাঁর অবিশ্বাস্য রকমের আসল ও খাঁটি ব্যক্তিত্বের মধ্যে, যা সবাইকে মুগ্ধ করত।

কম বয়সেই ‘হ্যানা মন্টানা’ সিরিজের মাধ্যমে খ্যাতি অর্জনের কঠিন সময়ে ডলি পার্টনের দেখানো পথই মাইলিকে মাটির কাছাকাছি রাখতে সাহায্য করেছিল। কৃত্রিম পেশাগত ইমেজের মধ্যেও কীভাবে নিজের আসল রূপ ধরে রাখা যায়, তা ডলিকে দেখেই শেখেন গ্র্যামি বিজয়ী এই গায়িকা।

বাবা বিলি রে সাইরাসের সাথে ডলির পুরোনো বন্ধুত্বের সুবাদেই ডলি পার্টন হন মাইলির গডমাদার, যিনি সবসময় অভিভাবক হয়ে মাইলির জীবন পরিচালনায় সঠিক বার্তা দিতেন।

Dolly Parton 03
ক্যারিয়ারে কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়লে ডলির দেওয়া পরামর্শগুলো স্মরণ করে আবেগাপ্লুত মাইলি জানান, প্রবীণ এই কিংবদন্তিরা এক একটি ইট গেঁথে আজকের এই চলার পথ মসৃণ করে দিয়ে গেছেন, তবে বিপদকালে ফোন করে পরম মমতায় পরামর্শ নেওয়ার মতো মানুষগুলো যে সারাজীবন থেকে যায় না— ডলির চলে যাওয়ায় সেই কঠিন সত্যটাই আজ তাড়া করে ফিরছে এই মার্কিন পপ তারকাকে।