কার্তিক মাসে প্রকৃতির শান্ত আবহের মধ্য দিয়েই ধীরে ধীরে কমছে তাপমাত্রা, ভোরের দিকে দেখা মিলছে মৃদু কুয়াশার। তবে হেমন্তের এই শান্ত রূপের বিপরীতে বঙ্গোপসাগর হয়ে উঠেছে বেশ বিক্ষুব্ধ। সৃষ্টি হয়েছে একটি লঘুচাপ, যা ইতিমধ্যে ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, এটি আরও শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড় বা সাইক্লোনে রূপ নিতে পারে। এর প্রভাবে রোববার থেকে দেশের বিভিন্ন বিভাগে বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শনিবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ সতর্কবার্তায় জানানো হয়, পূর্ব-মধ্য ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপটি শনিবার সকাল ৬টার দিকে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়ে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে অবস্থান করছিল। এটি ক্রমশ পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনায় উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সাগরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মোহাম্মদ বজলুর রশীদ জানিয়েছেন, সুস্পষ্ট লঘুচাপটি বিকেলের মধ্যেই নিম্নচাপে এবং রোববারের মধ্যে গভীর নিম্নচাপ থেকে পূর্ণাঙ্গ সাইক্লোনে রূপ নিতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে এটি ঠিক কোথায় আঘাত হানবে, এমন প্রশ্নে তিনি জানান, আবহাওয়ার গতিপথ অনুযায়ী এটি সম্ভবত ভারতের ওডিশা ও অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল ঘেঁষে অতিক্রম করবে এবং পরবর্তীতে বিহার-ঝাড়খন্ড হয়ে স্থল নিম্নচাপে রূপ নেবে।
বাংলাদেশ সরাসরি আঘাতের কেন্দ্রে না থাকলেও এর প্রভাব পরবে এ দেশের আবহাওয়ায়। রোবাবার থেকে দেশের দক্ষিণাঞ্চল, ঢাকা, রাজশাহী এবং রংপুর বিভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সিলেট অঞ্চলে বৃষ্টি না-ও হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আবহাওয়াবিদরা আরও জানান, অক্টোবর মাসের প্রায় শেষ প্রান্তে চলে আসায় এই নিম্নচাপের প্রভাব কেটে গেলেই সারা দেশে তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে। নভেম্বরের শুরু থেকেই দেশের সর্বত্র পুরোদমে শীত পড়তে শুরু করবে।