ভালোবেসে সব হারালেন জাপানের রাজকুমারী

জন্ম-বেড়ে ওঠা রাজপ্রাসাদে হলেও প্রেমে পড়েছিলেন এক সাধারণ ঘরের ছেলের। বাগদানের চার বছর অবশেষে পর ভালোবাসার মানুষকে বিয়েও করলেন। আর তাতেই ছাড়তে হলো রাজকীয় মর্যাদা, পদবী ও সম্পদ।

জাপানের রাজকুমারী ও দেশটির বর্তমান সম্রাটের ভাতিজি মাকো এবং তার দীর্ঘদিনের প্রেমিক কেই কোমুরোর মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। কলেজ জীবন থেকেই চলছিল তাদের প্রেম। জীবনসঙ্গী হিসেবে তাদের একসাথে জীবন যাপনের তথ্য মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

বার্তাসংস্থাটি জানিয়েছে, মঙ্গলবার প্রেমিক কেই কোমুরোর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার মাধ্যমে নিজের রাজকীয় মর্যাদা, পদবী ত্যাগ করেছেন রাজকুমারী মাকো।

জাপানি রাজপরিবারের নিয়ম অনুযায়ী, রাজপুত্র অথবা রাজকুমারীরা রাজবংশের বাইরে সাধারণ পরিবারের কাউকে বিয়ে করলে রাজকীয় পদমর্যাদা হারায় এবং তাদের রাজপ্রাসাদের সবকিছু থেকে তাদেরকে বঞ্চিত হতে হয়।

আরও পড়ুন: তালেবান শাসন: ক্ষুধার জ্বালায় সন্তান বিক্রি করছেন বাবা-মা

জাপানের সংবাদমাধ্যম অনুযায়ী, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে বিয়ের রেজিস্ট্রি করার জন্য রাজকুমারী মাকো তার টোকিওর বাড়ি থেকে বের হন। বিয়ের পর নতুন স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে খোলামেলা যৌথ এক সংবাদ সম্মেলনে রাজকুমারী মাকো জানান, টালমাটাল বাগদান পর্বের পর তার ‘অপরিবর্তনীয়’ স্বামীর সঙ্গে সুখী একটি জীবন গড়ে তুলতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। 

তিনি আরও জানান, ‘আমাদের বিয়ের বিষয়ে অনেকের অনেক মতামত রয়েছে। তবে আমাদের কারণে কারও কষ্ট বা সমস্যা হয়ে থাকলে আমি খুবই দুঃখিত।

রয়টার্স জানিয়েছে, গত শনিবার ছিল রাজকুমারী মাকোর ৩০তম জন্মদিন। ওই দিন শেষবারের মতো রাজপ্রাসাদে জন্মদিন পালন করেন তিনি।

২০১২ সালে জাপানের ইন্টারন্যাশনাল ক্রিশ্চিয়ান ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় প্রিন্সেস মাকো ও কেই কোমুরোর পরিচয় হয়। এরপর মন দেওয়া-নেওয়া, বাগদান এবং এরপর দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া।


একাত্তর/এসএ