দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেতে বিক্রি হচ্ছেন আফগান নারীরা

বর্তমানে আফগানিস্তানের অর্ধেকের বেশি মানুষ চরম খাদ্যসংকটে ভুগছে। দেশটিতে দেখা দিয়েছে মানবিক সংকটও। জরুরি সহায়তা দেয়া না গেলে এবারের শীত মৌসুমে অনাহারে শিশুসহ কয়েক লাখ আফগানের মৃত্যু হতে পারে। গত মাসেই পরিবারের অন্যান্যদের ক্ষুধা মেটাতে নবজাতককে বিক্রি করে আলোচনায় এসেছিলেন এক আফগান দম্পতি। সেই মর্মান্তিক ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার একটু ভালো থাকার আশায় প্রতারক চক্রের ফাঁদে পা দিয়ে নিজেদের অজান্তেই বিক্রি হয়ে গেছেন প্রায় দেড়শ দরিদ্র আফগান নারী।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বিত্তশালী ঘরের ঘরনি করে দেবেন এমন প্রলোভন দেখিয়ে ১৩০ জন নারীকে বিক্রি করতে যাচ্ছিলেন এক পাচারকারী। অনেক দরিদ্র নারীই চাইতেন নিজের অবস্থার উন্নতি করতে। আর ওই নারীদেরকেই টার্গেট করতেন পাচারকারী। 

আরও পড়ুন: জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদেরই সংস্কার চায় ইরান!

প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, যেসব গরীব নারী নিজেদের অবস্থার উন্নতির জন্য তার কাছে যেতেন তাদেরকেই নিশানা করতেন ওই পাচারকারী। ওই পাচারকারী দরিদ্র নারীদের বলতেন যে তিনি তাদের ধনী স্বামী খুঁজে দেবেন। তারপর তিনি নারীদের অন্য প্রদেশে নিয়ে যেতেন। সেখানে নিয়ে তিনি তাদের দাস হিসেবে বিক্রি করে দিতেন।

গত ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে তালেবান। পরের মাসে তারা সরকার গঠনের ঘোষণা দেয়। আর দেশটির ক্ষমতা তালেবানের দখলে যাওয়ার পর পশ্চিমা সংস্থাগুলো সেখানে সহায়তা আটকে দেয়, আটকে দেয় আফগান রিজার্ভের টাকাও।

ডব্লিউএফপির নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিসলি সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, আফগানিস্তানে প্রায় ২ কোটি ২৮ লাখ মানুষ চরম অনাহারে দিন কাটাচ্ছে, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি।


একাত্তর/টিএ