তুরস্কের রাজধানীতে বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ ভাস্কর্য উন্মোচন

স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পূর্তিতে তুরস্কের আঙ্কারায় স্থাপন করা হলো বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ ভাস্কর্য একই সঙ্গে একটি পার্কের নামকরণ হয়েছে বঙ্গবন্ধুর নামে

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলছেন, এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে যেমন নতুন করে তুলে ধরবে; তেমনই দুই দেশের সম্পর্কেও যোগ করবে নতুন মাত্রা

তিন বছরের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় আজ বাংলাদেশের জন্য একটি আলোক উজ্জ্বল দিন তুরস্কের মাটিতে উম্মোচিত হলো বঙ্গবন্ধুর অবয়ব

তুরস্কের জাতির পিতা কামাল আতাতুর্কের সাথে ছিলো বঙ্গবন্ধুর গভীর সম্পর্ক ভালোবাসার সেই স্মারককে অমলিন রাখতে নিজের সন্তানের নাম রেখেছিলেন কামাল

আর, ঢাকার রাস্তার নামকরণ করেছিলেন কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ সেই তুরস্কে এবার স্থান করে নিলো বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ ভাস্কর্য

সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টায় তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় বঙ্গবন্ধু বুলভার্ডের চার রাস্তার মোড়ে বঙ্গবন্ধুর একটি আবক্ষ ভাস্কর্য উদ্বোধন করা হয়েছে।

তুরস্কের একটি পার্কের নামও রাখা হলো বঙ্গবন্ধুর নামে কারনেই বনানীর পার্কটির নাম পাল্টে রাখা হয়েছে কামাল আতাতুর্কের নামে

এ উপলক্ষে আঙ্কারার বঙ্গবন্ধু বুলভার্ডে একটি সভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিতছিলেন আঙ্কারার গভর্নর ওয়াসিপ শাহীন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম।

আঙ্কারার ডেপুটি মেয়র সেলিমসিরপান লৌ, আঙ্কারার মেয়র মনসুর ইয়াভাসতুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনার মাসুদ মান্নানও এ সময় উপস্থিতি ছিলেন সেখানে।

অনুষ্ঠানে মেয়র আতিক বলেন,আজ আমাদের জন্য একটি গর্বের দিন। তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় আমরা বঙ্গবন্ধুর একটি আবক্ষ ভাস্কর্য স্থাপন করতে পেরেছি।

এটি দেশের বাইরে জাতি হিসেবে আমাদের বাংলাদেশের মান উজ্জ্বল করেছে। ঢাকার বনানী এলাকায় তুরস্কের জাতির জনকের নামে কামাল আতাতুর্ক সরণি রয়েছে।

সড়কটি সংলগ্ন পার্কও কামাল আতাতুর্কের নামে নামকরণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমরা তুরস্ককে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। তারা যখন সময় দেবে তখন সেটি উদ্বোধন করা হবে’।

আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, প্রকৃত বন্ধুর প্রতিফলন দেখানোর জন্য বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে তুরস্কের জনগণ ও সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, আজকে আঙ্কারায় বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও জাতির পিতার আবক্ষ ভাস্কর্যটি উন্মোচন বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার গভীর বন্ধুত্বের স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ।

ড. মোমেন বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার জন্য তাঁর আজীবন সংগ্রামে মুস্তফা কামাল আতার্তুকের সাহস ও নেতৃত্ব দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত ছিলেন।

তিনি আরো বলেন, ‘মহান এই দুই নেতার নামে দুটি রাস্তা- আঙ্কারায় বঙ্গবন্ধু জাদ্দেসি ও ঢাকায় কামাল আতার্তুক এভিন্যু, শুধু দুই নেতার প্রতি বাংলাদেশ ও তুরস্কের জনগণের মধ্যকার পারস্পারিক ভালবাসাও শ্রদ্ধারই প্রতিফলন নয়, অধিকন্তুতাঁদের আদর্শ ও দর্শনের প্রতি আস্থারও বহিপ্রকাশ’।

বাংলাদেশ ও তুরস্ক ঐতিহাসিক, সংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বন্ধনে আবদ্ধ উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, এই সম্পর্ক এমন একটি পরিপক্কতায় পৌঁছেছে- যে দেশ দুটির জন্য তা অভিন্ন গর্বের।

তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি সময় বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ ভাস্কর্যটি উন্মোচন করলাম,যখন আমরা বিজয়ের মাস উদযাপন করছি।’

মোমেন বলেন, ৫০ বছর আগে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু শেখমুজিবুর রহমানের সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বিশ্বের মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ করে।


একাত্তর/এসএ