রাশিয়ার বিরুদ্ধে কিয়েভে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ

প্রতিবেশী দেশ রাশিয়ার আগ্রাসন ও হামলার শঙ্কায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। 

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, স্থানীয় সময় শনিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজপথে নামেন কয়েক হাজার ইউক্রেনবাসী।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দেশটির জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে রুশ আগ্রাসনের হুমকির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানালে, মূলত তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে শনিবার রাজপথে নামে দেশটির মানুষ।  

এ দিন কিয়েভের কেন্দ্রস্থলে জড়ো হয়ে তারা 'ইউক্রেনের গৌরবের জয় হোক', 'ইউক্রেনীয়রা প্রতিরোধ গড়বে' এবং 'হানাদারদের অবশ্যই মরতে হবে' বলে স্লোগান দেন। এ সময় তাদের হাতে ছিল ইউক্রেনের পতাকা ও রাশিয়া বিরোধী ব্যানার ছিলো। 

জেলেনস্কি বলেন, এখনও যা ঘটেইনি, তার সঙ্গে আমি তো একমত বা দ্বিমত পোষণ করতে পারি না। এখন পর্যন্ত, ইউক্রেনে কোনো পূর্ণ মাত্রার যুদ্ধ বাঁধেনি। 

দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন অঞ্চলে একটি পুলিশ মহড়ায় অংশ নিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি স্বীকার করেন, রাশিয়া যেকোনো সময় আক্রমণ করতে পারে। তবে, তিনি বড় ধরনের যুদ্ধ আসন্ন বলে মনে করেন না।

যদিও রাশিয়া বলছে, তারা ইউক্রেনে কোনো ধরণের আগ্রাসন চালাতে চায় না। কিন্তু রাশিয়া আবার ইউক্রেন সীমান্তের কাছে এক লাখেরও বেশি সৈন্য জড়ো করেছে। বড় ধরনের অস্ত্র ও সামরিক মহড়াও চালিয়েছে।

ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শনিবার ঘণ্টাব্যাপী কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ইউক্রেন সীমান্তে রুশ সেনা মোতায়েন অব্যাহত থাকায় কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়। তবে এই আলোচনা কোনো মৌলিক পরিবর্তন আনতে পারবে না বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।   

আরও পড়ুন: জায়েদ-নিপুনের পদ নিয়ে সোমবার শুনানি

ফোনালাপে বাইডেন বলেন, সামরিক আগ্রাসন চালালে ইউক্রেন বড় ধরনের মানবিক সংকটের মুখে পড়বে। এতে রাশিয়ার গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। রাশিয়া হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্র দেশগুলো তার কড়া জবাব দেবে। রাশিয়াকে এ জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে।

এদিকে রাশিয়া ইউক্রেন দখলের পরিকল্পনা করছে, পশ্চিমাদের এই দাবির সমালোচনা করেন পুতিন। তিনি এটিকে 'উস্কানিমূলক জল্পনা' হিসেবে বিবেচনা করছেন, যা সাবেক সোভিয়েত দেশ ইউক্রেনে সংঘাতের কারণ হতে পারে। 


একাত্তর/আরবিএস