ইউক্রেন সংকট নিরসনে আমেরিকান এবং রুশ প্রেসিডেন্টের ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। রোববার পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপে কিয়েভে হামলা হলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে তড়িৎ এবং কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েচেন জো বাইডেন।
জবাবে ওয়াশিংটনের উন্মত্ততার নিন্দা জানিয়েছে ভ্লাদিমির পুতিন। বলেছেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক যুদ্ধের প্রচারণা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, নিজেদের নিরাপত্তার জন্যই ইউক্রেন সীমান্তে সেনা মোতায়েন।
এদিকে, হামলার বিষয়ে পশ্চিমাদের অতি সতর্কতা আতঙ্ক তৈরি করছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি।
ইউক্রেন ঘিরে রাশিয়ার সামরিক শক্তি বাড়ানোর পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিমাদের সঙ্গে মস্কোর উত্তেজনা অব্যাহতভাবে বাড়ছে। জবাবে ওই অঞ্চলে সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়ে চলছে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেনসহ তাদের মিত্ররা। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, কিয়েভে যেকোনো মুহূর্তে হামলা চালাতে পারে মস্কো।
যুক্তরাষ্ট্রের এমন সতর্কতায় ইউক্রেন থেকে নিজ নাগরিক এবং দূতাবাসের কর্মীদের সরিয়ে নিচ্ছে কানাডা, জাপানসহ ১২টির বেশি রাষ্ট্র। হোয়াইট হাউস থেকে ইউক্রেন ছাড়তে আমেরিকান নাগরিকদের জন্য ৪৮ ঘণ্টার ডেডলাইনও বেঁধে দেয়া হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ঘণ্টাব্যাপী আলোচনায় ইতিবাচক কিছু হয়নি।
হোয়াইট হাউস জানায়, ফোনালাপে পুতিনকে বাইডেন বলেছেন, ইউক্রেনে আবারও হামলা হলে মিত্রদের নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে যুক্তরাষ্ট্র।
ওয়াশিংটন, সংকট নিরসনে সামরিকপন্থার পাশাপাশি কূটনীতিসহ অন্যান্য উপায়কে সমান গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানানো হয়।
মস্কো জানিয়েছে, ফোনালাপে বাইডেনকে পুতিন বলেছেন, রাশিয়ার প্রধান উদ্বেগগুলো আমলে নিতে ব্যর্থ হয়েছে ওয়াশিংটন।
তার মধ্যে পূর্ব ইউরোপে ন্যাটো জোটের সম্প্রসারণ বন্ধের দাবি অন্যতম। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি-ধমকিকে ওয়াশিংটনের অতি উত্তেজনা আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছে মস্কো।
এদিন, একই ইস্যুতে পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তাও ফলপ্রসূ হয়নি।
এ অবস্থায় ইউক্রেনের রুশ মিশন থেকে কয়েকজন কূটনৈতিকে সরিয়ে নিয়েছে মস্কো। কিয়েভ এবং তার মিত্রদের অব্যাহত উস্কানিতে সংঘাতের আশঙ্কায় এ সিদ্ধান্ত বলে জানানো হয়।
কিয়েভে রুশ হামলা নিয়ে পশ্চিমাদের সতর্কতার কারণে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।
পশ্চিমারা সতর্ক করলেও হামলার বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য প্রমাণ নেই বলে জানান। এ অবস্থায় নাগরিকদের শান্ত থেকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানায় কিয়েভ।
আরও পড়ুন: রাশিয়ার বিরুদ্ধে কিয়েভে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ
এদিন তীব্র শীত উপেক্ষা করে কিয়েভে সমাবেশ করেছেন ইউক্রেনের কয়েক হাজার নাগরিক। আতঙ্কিত হওয়াকে অর্থহীন আখ্যা দিয়ে সার্বভৌমত্ব রক্ষায় লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি দেন তারা।