ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের শিভামোগগা জেলার শিরালাকোপ্পার একটি সরকারি
কলেজে হিজাব পরে আসায় ৫৮ ছাত্রীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
বহিষ্কার করা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা সরকারি নির্দেশ অমান্য করে হিজাব পরে কলেজে এসেছিলেন এবং বিক্ষোভ করছিলেন।
প্রশাসনের দাবি, গত তিন দিন ধরেই পুলিশ ও স্থানীয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ছাত্র-ছাত্রীদের হিজাব না পরার নিয়মের কথা জানাচ্ছিলেন।
এই খবর অনলাইনে প্রকাশ হওয়ার পর বিতর্ক শুরু হয়েছে। এখন বলা হচ্ছে, কলেজের অধ্যক্ষ মৌখিকভাবে শিক্ষার্থীদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছেন।
তবে এই ঘটনাকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে পুলিশ। শিভামোগগার ডিসি বলেছেন, অধ্যক্ষ শুধু হুমকি দিয়েছিলেন এবং আসলে তাদের বরখাস্ত করেননি।
এদিকে কর্ণাটকের তুমাকুরু জেলার একটি সরকারি প্রি-ইউনিভার্সিটি কলেজে বিক্ষোভ করার অভিযোগে ১০ জন মুসলিম ছাত্রীর নামে পুলিশ এই প্রথম বারের মামলা করেছে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে কলেজটির ২০০ মিটার এলাকাজুড়ে ১৪৪ ধারায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মাইসোরের একটি কলেজে ছাত্রীরা যাতে হিজাব পরেই আসতে পারেন, সেজন্য কর্তৃপক্ষ তাঁদের ইউনিফর্ম নীতিই বাতিল করে দিয়েছে।
গত এক মাসের বেশি সময় ধরে কর্ণাটকের বিভিন্ন স্কুল কলেজে একদিকে হিজাব পরে ক্লাস করার অনুমতির দাবিতে আন্দোলন করছেন মুসলিম ছাত্রীরা। অন্যদিকে হিন্দু শিক্ষার্থীরা গেরুয়া ওড়না পরে হিজাববিরোধী আন্দোলন শুরু করেছেন।
আরও পড়ুন: মিশরের রাজার রহস্যময় ছুরি, যা বলছেন গবেষকরা
ইতোমধ্যে আদালতে পৌঁছেছে এই বিষয়টি। পাঁচ নারী কর্ণাটক হাইকোর্টে শ্রেণীকক্ষে হিজাব নিষিদ্ধের বিপক্ষে পিটিশন দায়ের করেছেন। বর্তমানে সেই পিটিশনের ওপর শুনানি চলছে।
গত ১০ ফেব্রুয়ারির শুনানিতে এ বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দিয়েছে কর্ণাটক হাইকোর্ট। সেই আদেশে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে আদালতের চুড়ান্ত রায় আসার আগ পর্যন্ত রাজ্যের কোনো স্কুল-কলেজে ধর্মীয় পোশাক পরে কোনো শিক্ষার্থী আসতে পারবেন না।
একাত্তর/আরবিএস