ব্রাজিলে বন্যা ও ভূমিধসে নিহত বেড়ে ১৬৫

ব্রাজিলের উত্তরাঞ্চলে টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে। মৃতদের মধ্যে ২৮ শিশুও রয়েছে। 

পেট্রোপলিসের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে উদ্ধারকর্মীরা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের নিখোঁজ আত্মীয়দের সন্ধানে খনন চালিয়ে যাচ্ছেন। 

দেশটির রাষ্ট্রপতি জাইর বলসোনারো বলছেন, পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে এখানে 'যুদ্ধ' হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের পর্যাপ্ত সহায়তা দিতে সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে পোপ ফ্রান্সিস ভ্যাটিকানের সেন্ট পিটারস স্কোয়ারে তার অ্যাঞ্জেলাস প্রার্থনার পরে ব্রাজিলের হতাহতদের জন্য শোক বার্তা পাঠিয়েছেন।

রোববার (২০ ফেব্রুয়ারি) ব্রাজিল সরকারের বরাতে ফরাসি সংবাদমাধ্যম ফ্রেঞ্চ২৪ জানায়, গত তিন মাসে প্রধানত দেশটির দক্ষিণ-পূর্ব রাজ্য সাও পাওলো এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য বাহিয়া, সেইসাথে পেট্রোপলিস এবং এস্পিরিটো সান্তোতে ভারী বৃষ্টিপাত ও ঝড়ে কমপক্ষে ২১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।  

দেশটির রিও ডি জেনেরিওর উত্তরাঞ্চলীয় পার্বত্য শহর পেট্রাপোলিস গত কয়েক দিন ধরেই ছিল টানা বৃষ্টির কবলে পড়েছে। এর ফলেই বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে ওই অঞ্চলে। 

রিও ডি জেনিরোর গভর্নর ক্লদিও কাস্ত্রো বলেছেন, ১৯৩২ সালের পর থেকে পেট্রোপোলিসে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে বৃষ্টি হয়েছে এবার।

আরও পড়ুন: মাদ্রাসা যাওয়ার পথে গাড়ি চাপায় শিক্ষকের মৃত্যু

মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে শহরটিতে এক মাসের সমান বৃষ্টিপাত হলে পুরো শহর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। পানিতে তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট, বাড়িঘর। মাটি ধসে এখনো কতজন মানুষ আটকা পড়ে আছে তা স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। তবে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় বেড়েছে উদ্ধার অভিযান। 

গত কয়েক মাসে ব্রাজিলে এ ধরনের ভারী বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এসবের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকেই দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। 

পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রায় প্রায় এ ধরণের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে আমাদের। রাষ্ট্রগুলোর এখনই পরিবেশ নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করা উচিত। 


একাত্তর/আরবিএস