আনিস খান হত্যাকাণ্ড: এক বাংলাদেশীর বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ছাত্র নেতা আনিস খান হত্যাকাণ্ড এখনও অন্ধকারে। এখন পর্যন্ত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। কিন্তু এবার এক বাংলাদেশী নাগরিকের ফোন কলের কারণে নতুন মোড় নিলো ঘটনাটি।

মৃত ছাত্রনেতা আনিস খানের বাবা ও ভাইকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন সেই বাংলাদেশী ব্যক্তি। পরে অবশ্য সেজন্য ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি।  

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার শনিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে এখনও ওই বাংলাদেশী নাগরিকের পরিচয় জানা যায়নি।     

আনিসের ভাই সাবির খানকে ফোন করে ক্ষমা চাওয়ার ওই অডিও ক্লিপটি ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে। 

অডিও ক্লিপে অপর দিক থেকে বলতে শোনা যায়, দাদা আপনাকে ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে যে ফোনটি করা হয়েছিল, সেটা আমিই করেছিলাম। আমি বাংলাদেশের লোক। আমি মালয়েশিয়াতে থাকি। আমি মজা করতে গিয়ে ভুল করে ফোনটা করে ফেলেছিলাম।

সাবির খান (বামে) ও ছাত্র নেতা আনিস খান  

উল্লেখ্য, গত ২৩ ফেব্রুয়ারির রাতে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে খুনের হুমকি দিয়ে ফোন করার অভিযোগ আনেন মৃত আনিসের ভাই সাবির। পুরো পরিবারকে ‘দুনিয়া থেকে সরিয়ে’ দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় ফোনে। রাত ১ টা ৪ মিনিটে একটি অজ্ঞাত পরিচয় নম্বর থেকে এই হুমকি ফোনটি আসে বলে জানান সাবির খান। 

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষমাও চান ওই অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি। তাকে নিজের 'ছোট ভাই' ভেবে ক্ষমাও করে দিতে বলেন। পাশাপাশি আনিসের মৃত্যু নিয়েও সমবেদনা জানান ওই ব্যক্তি। অনুরোধ করেন, যাতে তার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হয়।

এ বিষয়ে আনিসের ভাই সাবির জানিয়েছেন, তদন্তের জন্য পুলিশকে আগেই ওই বাংলাদেশী ব্যক্তির নম্বরটি দিয়েছেন তিনি।

নম্বরটি সত্যিই কোনো বাংলাদেশী ব্যক্তির কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। 

এর আগে শুক্রবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) হাওড়া জেলার আমতার বাসিন্দা আনিস খান রাতে বাড়ি ফেরার কিছুক্ষণের মধ্যেই চার ব্যক্তি আসেন তার খোঁজে। একজনের পরনে ছিল পুলিশের পোশাক, অন্যরা ছিলেন সিভিক পুলিশের পোশাকে। এমনটাই দাবি আনিসের পরিবারের। 

আরও পড়ুন: পুতিনের প্রস্তাব মেনে আলোচনা করতে প্রস্তুত জেলেনস্কি

আনিসের পরিবার জানায়, বারবার গেট খোলার অনুরোধ করলে আনিসের বাবা এক সময় গেট খুলে দেন। চারজনের তিনজন দ্রুত চলে যায় তিন তলায়। আনিস তখন বারান্দায় বসে কানে হেডফোন লাগিয়ে মোবাইল ফোনে কিছু একটা শুনছিলেন। পরিবারের দাবি, রাত তিনটার দিকে ওই দুই ব্যক্তি তিন তলায় উঠে আনিসের মাথায় প্রথমে আঘাত করে, তারপর তিনতলা থেকে ফেলে দেয়। সেখানেই মৃত্যু হয় আনিসের। 

পরিবারের অভিযোগ, বারবার ফোন করা সত্ত্বেও আমতা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় ছয় ঘণ্টা পরে। ময়না তদন্ত পরিবারের সবার অনুপস্থিতিতে করানোর অভিযোগও উঠেছে।

 

একাত্তর/আরবিএস