তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা এড়াতে ইউক্রেনে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে চায় না যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধে থাকতে থাকতে এমনিতেই ক্লান্ত দেশটি।
তবে ন্যাটো সদস্যভুক্ত কোন দেশ যদি আক্রান্ত হয়, তাহলে সামরিক এই জোটের নীতিমালা অনুযায়ী, যুদ্ধে না যাওয়ার আর কোন বিকল্পও থাকবে না যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের সামনে।
প্রথমে কূটনীতিক প্রচেষ্টা, পরে হুঁশিয়ারি। এরপর কঠোর অবরোধ আরোপ-কোন কিছু দিয়েই থামানো যায়নি ভ্লাদিমির পুতিনকে।
অপেক্ষাকৃত দুর্বল ইউক্রেনে, রাশিয়ার আগ্রাসন চালানোর পর সরব গোটা দুনিয়া। প্রশ্ন উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা তবে কেন সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছে না।
বাইডেন পরিস্কার করে বলে আসছেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি অস্ত্র ধরবে না তার দেশ। কারণ পারমাণবিক দুটি দেশ মুখোমুখি হয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা করুক, এটা তিনি চান না।
ইরাক ও যুগোশ্লাভিয়া ভেঙে যাওয়ার পর যুদ্ধে জড়িয়েছে আমেরিকা। মানবাধিকার পরিস্থিতির কথা বলে লিবিয়ায় হস্তক্ষেপ করেছে। দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে অংশ নিয়েছে আফগানিস্তানে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সেই সব অভিজ্ঞতা মোটেও সুখকর নয়। তার উপর এবার পরিস্থিতি ভিন্ন, আর প্রতিপক্ষ দুটোই ভিন্ন।
তবে নিরাপত্তা শঙ্কায়, ইউক্রেনের প্রতিবেশী পূর্ব ইউরোপের ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোতে এরিমধ্যে ব্যাপক সৈন্য ও সামরিক সরঞ্জামের সমাবেশ ঘটিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা।
ন্যাটো সামরিক চুক্তির আর্টিকেল-ফাইভে বলা হয়েছে, যে কোন সদস্যদেশ আক্রান্ত হলে, সহায়তায় এগিয়ে যাবে অন্যরা।
এদিকে, পরমাণু অস্ত্র প্রস্তুত রাখার জন্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট, ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশনার পর, নতুন করে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে পৃথিবীজুড়ে।
বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র। ভেতরে ভেতরে এনিয়ে চলছে বিশ্লেষণ।
আরও পড়ুন: ইউক্রেন সংকট নিয়ে জরুরি অধিবেশনের প্রস্তাব পাস
ইতিহাস বলছে, প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরুতে অংশ নেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। নিজেদের উপর আঘাত এলে সেই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া তাদের জন্য অনিবার্য হয়ে উঠেছিল।
এবার দেশটি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ ঠেকানোর কথা বললেও, শেষ পর্যন্ত সেটা কি সম্ভব হবে? এই প্রশ্নটিই এখন সবার সামনে।
একাত্তর/আরএ