ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা গড়ালো ১১তম দিনে। দিনের শুরুতে ইউক্রেনের বিভিন্ন
শহরে প্রচন্ড গোলাগুলি ও গোলাবর্ষনের শব্দ পাওয়া গেছে। আরও বড় হয়েছে শরনার্থীদের মিছিল।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধবিমান ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চেয়েছে ইউক্রেন। হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, এ বিষয়ে পোল্যান্ডের সঙ্গে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে, কোনো দেশ ইউক্রেনের আকাশে নো–ফ্লাই জোন চালু করলে সেই দেশও সংঘাতে অংশ নিয়েছে বলে মস্কো ধরে নেবে এমন হুঁশিয়ারী দিয়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন।
অন্যদিকে, রোববার যুদ্ধের এগারোতম দিনেও, ধ্বংসস্তূপের মাঝেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে নিজেদের বসতভিটা ছাড়ছেন ইউক্রেনীয়রা।
এদিন প্রচণ্ড গোলাবর্ষণের খবর মিলেছে রাজধানী কিয়েভের কাছেই ইরপেন শহরে। মারিউপোলে যুদ্ধ বিরতি ভেস্তে যাওয়ার পর শহরটির ওপর অব্যাহত গোলাবর্ষণ করে যাচ্ছে রুশ সৈন্যরা।
উক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মারিউপোল এবং সুমি শহরে মানবিক বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সুমি অঞ্চলে কোন বিদ্যুৎ নেই।
স্থানীয় সময় শনিবার সাময়িক যুদ্ধ বিরতি কার্যকর হওয়ার পর মারিউপোল এবং ভলনোভাখা শহর থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু হয়।
তবে, রাশিয়ার হামলা অব্যাহত থাকায় কয়েক ঘন্টা পরই বাতিল হয়। দুই পক্ষই দোষারোপ করেছে একে অপরকে। তবে এরমধ্যেও কিছু নাগরিককে সরিয়ে নেয়া হয়।
রোববার, নাগাদ ইউক্রেন ছেড়ে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে আশ্রয় নেয়া মানুষের সংখ্যা ১৫ লাখ ছাড়াতে পারে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
স্থানীয় সময় শনিবার রাতে এক টেলিভিশন ভাষণে রুশ সেনাদের দখলে যাওয়া অঞ্চলগুলোতে লড়াই চালাতে বাসিন্দাদের আহবান জানিয়েছে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলোনস্কি।
আর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আবারও জোর দিয়ে বলেছেন তার দেশ ইউক্রেনকে নিরপেক্ষ অবস্থায় দেখতে চায়।
তিনি বলেন, ইউক্রেন আক্রমণের পর পশ্চিমা বিশ্ব রাশিয়ার ওপর যেসব নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তা যুদ্ধ ঘোষণার শামিল। তবে, এখনও সেই সময় আসেনি বলে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানান পুতিন।
একই সাথে, যদি কোনো দেশ ইউক্রেনের আকাশে নো–ফ্লাই জোন চালু করে, তাহলে সেই দেশও সংঘাতে অংশ নিয়েছে বলে মস্কো ধরে নেবে বলে হুঁশিয়ারী দেন পুতিন।
যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা চালাতে পুতিনের সাথে তিন ঘন্টার বৈঠক করেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট। এরপরই ফোনে কথা বলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সাথে।
এদিকে, পোল্যান্ড সীমান্তে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধ বিমান ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চেয়েছে ইউক্রেন।
বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে জানিয়ে হোয়াইট হাউজ বলছে, জরুরি সহায়তা হিসেবে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়ের চেষ্টা করছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইউক্রেনের অনুরোধের বিষয়টি বিবেচনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ওয়ারশোর সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে।
দুই আইনপ্রণেতার সঙ্গে জুমে কথা হয়েছে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির। তিনি বলেন পোল্যান্ড ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা ফাইটার জেট পাঠাতে প্রস্তুত। শুধু যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতির অপেক্ষায় আছে।
যুদ্ধে ন্যাটো নিজেদের সেনা না পাঠালেও পশ্চিমা দেশগুলো সামরিক সরঞ্জাম পাঠাতে রাজি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, জার্মানিসহ বিশ্বের অনেক দেশ ইউক্রেনে সামরিক রসদ পাঠাচ্ছে।
এদিকে, ইউক্রেন যুদ্ধে ১০ হাজারের বেশি রুশ সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি কিয়েভের।আর জাতিসংঘ বলছে, ইউক্রেনের সাড়ে তিনশোর বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে।
আর ইউক্রেনের দাবি করেছে, যুদ্ধ শুরুর পর কমপক্ষে ১০ হাজার রুশ সেনা নিহত হয়েছে। তা ছাড়া ২৬৯টি ট্যাঙ্ক, ৪০টি হেলিকপ্টারসহ রাশিয়ার বহু অস্ত্র ও সরঞ্জাম তারা গুঁড়িয়ে দিয়েছে।
একাত্তর/আরবিএস