ইউক্রেনে রাশিয়ার বিশেষ সেনা অভিযান শুরুর পর থেকে ৩৩ লাখের বেশি মানুষ দেশ ছেড়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়াও ইউক্রেনের অভ্যন্তরে প্রায় ৬৫ লাখ মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
শনিবার (১৯ মার্চ) জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এই হিসাব দিয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপির।
ইউএনএইচসিআরের হিসাব অনুযায়ী দেখা যায়, ফেব্রুয়ারির শেষে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা শুরু করার পর ইউক্রেনের ৩৩ লাখ ২৮ হাজার ৬৯২ জন মানুষ ইতোমধ্যে দেশ ছেড়েছেন। এছাড়াও নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘরবাড়ি ছেড়েছেন আরও ৫৮ হাজার ৩০ জন ইউক্রেনীয়।
ইউএনএইচসিআর প্রধান ফিলিপ্পো গ্রান্ডি বলেন, বোমা ও বিমান হামলা এবং নির্বিচার ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কায় ভীত হয়ে অন্য দেশে পালানো অব্যাহত রেখেছে ইউক্রেনের মানুষের । আর এসব মানুষের কাছে সাহায্য পৌঁছানো খুব জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে, যারা ইউক্রেন ছেড়েছেন তাদের ৯০ শতাংশই নারী ও শিশু। ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী পুরুষ যারা যুদ্ধ করতে পারবেন তারা দেশ ছাড়তে পারছেন না বলে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর বুধবার (১৬ মার্চ) পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের এক লাখ ৬২ হাজার মানুষ ইউক্রেন ছেড়েছেন। এছাড়াও আরও লাখ লাখ মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে ইউক্রেনের বিভিন্ন সীমান্তে আটকা পড়ে আছেন।
আর আইওএম'র হিসাব অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত আনুমানিক ৬৪ লাখ ৮০ হাজার মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে ইউক্রেনেই বিভিন্ন নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, প্রাথমিকভাবে ইউক্রেনের ৪০ লাখ মানুষ দেশত্যাগ করতে পারেন জানালেও গত সপ্তাহে ইউএনএইচসিআর বলেছে, এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
একাত্তর/জো