মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর চালানো জাতিগত সহিংসতাকে 'গণহত্যা' ও 'মানবতাবিরোধী' অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এমন দাবিকে নাকচ করে দিয়েছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার।
ফরাসী সংবাদমাধ্যম ফ্রান্স২৪ বুধবার (২৩ মার্চ) এক প্রতিবেদনে জানায়, মিয়ানমারের জান্তা সরকার মার্কিন ঘোষণাকে "স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে"। একইসাথে হেগের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার দাবির বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছেন তারা।
এর আগে সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন বলেন, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী পরিষ্কার ভাবে রোহিঙ্গাদের ধ্বংস করতে চেয়েছিল বলে ওয়াশিংটন নির্ধারণ করেছে। নেতাদের এর জন্য দায়বদ্ধ থাকা উচিত।
জাপানের সংবাদমাধ্যম এনএইচকে বলছে, সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি প্রকাশ করে, যেখানে বলা হয়েছে যে, জান্তা সরকার যুক্তরাষ্ট্রের দাবি "দৃঢ়তার সাথে খারিজ করে দিচ্ছে"।
এতে আরও বলা হয়, ব্লিনকেনের বক্তব্য বাস্তব থেকে অনেক দূরে এবং অবিশ্বাসযোগ্য, যা যাচাই না করা তথ্যের উপর ভিত্তি বলা।
এদিকে মিয়ানমারের ওপর অব্যাহত চাপ বজায় রাখতে ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পরিষদে (সিএফএম) ‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিম সম্প্রদায়ের পরিস্থিতি’ শীর্ষক একটি প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। বুধবার (২৩ মার্চ) বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।
আরও পড়ুন: কিয়েভে বোমা হামলায় রুশ সাংবাদিক নিহত
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের অগাস্টে মিয়ানমারের দক্ষিণপশ্চিমে মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর ব্যাপক দমন-পীড়ন শুরু হলে ১০ থেকে ১৩ লাখ মানুষ সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়৷ ওই ঘটনায় মিয়ানমারের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আনার প্রস্তাব করে জাতিসংঘ৷
একাত্তর/আরবিএস