এক ব্যক্তির মৃতদেহ পড়ে আছে রাস্তায়, তার হাত পিঠের পিছনে বাঁধা এবং মাথায় একটি বুলেটের ক্ষত। রোববার ইউক্রেনের বুচা শহরের রাস্তার এমন শতাধিক মৃতদেহ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন ইউক্রেনের।
বুচার ডেপুটি মেয়র তারাস শাপ্রাভস্কি বলেছেন, গত সপ্তাহের শেষের দিকে রাশিয়ান বাহিনী শহর থেকে সরে যাওয়ার পরে ৫০ জন স্থানীয় বাসিন্দার মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। যারা রুশ সেনাদের দ্বারা পরিচালিত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার। স্থানীয় কর্মকর্তারা মস্কোর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এনেছেন।
এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক রোববার এক বিবৃতিতে বলেছে, ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ বুচায় রাশিয়ান সেনাদের দ্বারা 'অপরাধ' করার অভিযোগে প্রকাশিত সমস্ত ছবি এবং ভিডিওগুলি একটি 'উস্কানি' এবং বুচার কোনো বাসিন্দা রাশিয়ান সৈন্যদের হাতে সহিংসতার শিকার হয়নি৷
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, নিহত বাসিন্দাদের হত্যার জন্য কারা দায়ী তা এখনও যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
রোববার রয়টার্সের সাংবাদিকরা সরজমিনে গিয়ে দেখেছেন, সেখানে তিনটি মৃতদেহের হাত বাঁধা অবস্থায় পড়ে ছিল এবং অন্য দুটির হাত বাঁধা ছিল না।
বুচা মেয়র আনাতোলি ফেডোরুক এবং তার ডেপুটি এসব ঘটনাকে হত্যা হিসাবে বর্ণনা করেছেন।
হাত বাঁধা ওই তিনটি মৃতদেহের ক্ষেত্রেই শরীরের অন্য কোথাও উল্লেখযোগ্য কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মাথায় গুলিবিদ্ধ তিনজনই পুরুষ এবং তিনজনই বেসামরিক পোশাক পরিহিত।
যার হাত বাঁধা ছিল তার শরীরে, ঠোঁটে ও মুখে গান-পাউডারের পোড়ার চিহ্ন ছিল। যখন একজন ব্যক্তিকে খুব কাছ থেকে গুলি করা হয় তখন এই ধরনের চিহ্নগুলো দেখা যায়।
এক ব্যাক্তির হাত বাঁধার জন্য যে কাপড়টি ব্যবহৃত হয়েছে , সেটিকে একটি সাদা বাহুবন্ধনী বলে মনে হয়েছে। রাশিয়ার সৈন্যরা যখন বুচায় ছিল, তখন স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের শনাক্ত করার জন্য একই ধরনের আর্মব্যান্ড পরা শুরু করেন।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে কাছে রয়টার্সের সাংবাদিকরা মৃতদেহগুলো সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু তাৎক্ষণিক কোনো উত্তর পায়নি।
তবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় রোববার এক বিবৃতিতে বলেছে, রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী যখন ওই অঞ্চলের দায়িত্ব ছিল তখন স্থানীয় একজন বাসিন্দাও কোনো ধরনের সহিংস ঘটনার শিকার হননি। এমনকি ৩০ মার্চ রাশিয়ান সৈন্যরা যখন ওই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাহার করে, তখন কিয়েভ অঞ্চলের বেসামরিক নাগরিকদের জন্য ৪৫২ টন মানবিক সহায়তা প্রদান করেছিল।
বুচার ডেপুটি মেয়র শাপ্রাভস্কি বলেছেন, রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাহারের পর প্রায় ৩০০ জনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৫০ জনকে রুশ বাহিনীর হত্যা করেছে। অন্যরা হয় ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন, অথবা তাদের মৃত্যুর কারণ এখন পর্যন্ত অনিশ্চিত।
আরও পড়ুন: ডারবানের আম্পায়ারিং নিয়ে নালিশ দেবে বাংলাদেশ
আরেক মেয়র ফেডোরুক বলেছেন, যেকোনো যুদ্ধে বেসামরিক নাগরিকদের জড়িত থাকার কিছু নিয়ম আছে। রাশিয়া প্রমাণ করেছে যে, তারা সচেতনভাবে বেসামরিক মানুষকে হত্যা করছে।
এসব হত্যা অভিযোগ নাকচ করে রাশিয়া বলছে, এটি ইউক্রেনের প্রচারণা।
একাত্তর/আরবিএস