ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান অদূর ভবিষ্যতে সমাপ্তির মুখ দেখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। কিন্তু রাশিয়ার এ ঘোষণার একদিন পরেই পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো ইউক্রেনে নতুন করে সামরিক সহায়তা বাড়ানোর ঘোষণা করেছে।
এদিকে শুক্রবার (৮ এপ্রিল) সকালে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনেতস্ক প্রদেশের ক্রামাতোরস্ক রেলস্টেশনে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। আঞ্চলিক গভর্নরের ভাষ্যানুযায়ী, ওই হামলায় পাঁচ শিশুসহ অন্তত ৫২ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার বরাতে জাপানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এনএইচকে জানায়, পেন্টাগন ধারণা করছে যে রেলস্টেশনে হামলার জন্য রুশ বাহিনীই দায়ি এবং তারা একটি স্বল্প-পাল্লার ব্যলিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।
যদিও রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই হামলায় তাদের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছে এবং এর জন্য পাল্টা ইউক্রেনীয় বাহিনীকেই দায়ি করেছে।
অন্যদিকে শুক্রবার এক ভিডিও বার্তায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি বলেন, এটি রাশিয়ার আরেকটি যুদ্ধাপরাধ।
ওয়াশিংটনের একটি বিশেষজ্ঞ দল বৃহস্পতিবার জানায় যে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মারিউপোলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা চালাবে রাশিয়া। বিশেষজ্ঞরা এটিও বলছেন যে, রাশিয়া পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ দোনেতস্ক এবং লুহানস্কে একটি বড় ধরনের হামলার জন্য সেনাদের জড়ো করছে।
স্লোভাকিয়া শুক্রবার জানায়, ইউক্রেনকে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা প্রদান করেছে তারা। এই ব্যবস্থার ফলে যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্রকে ভূপাতিত কড়া সম্ভব।
আরও পড়ুন: এবার জনপ্রতি ফিতরা সর্বোচ্চ ২৩১০, সর্বনিম্ন ৭৫
আর চেক প্রজাতন্ত্র জানিয়েছে, তারা ইউক্রেনকে ট্যাংক প্রদান করবে। এছাড়া, বৃটেনও ঘোষণা দিয়েছে যে তারা ইউক্রেনকে প্রায় ১৩ কোটি ডলারের সমমূল্যের অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম প্রদান করবে। এর মধ্যে ট্যাংক প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রও রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সামরিক অভিযান ঘোষণার কয়েক মিনিট পরেই ইউক্রেনে বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে রুশ সেনারা। এরপর থেকে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ চলছে। ইতোমধ্যে ইউক্রেন ছেড়েছেন ৩০ লাখের বেশি মানুষ। এছাড়া যুদ্ধে ইউক্রেনের দুই হাজারের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং রাশিয়ার ১২ হাজার সৈন্য নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেন। তবে রাশিয়া বলছে, যুদ্ধে তাদের এতো সৈন্য নিহত হয়নি।
একাত্তর/আরবিএস