ইউক্রেনকে দূরপাল্লা ক্ষেপণাস্ত্রের স্পর্শকাতর ব্লুপ্রিন্ট দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর এবার সরাসরি যুক্তরাজ্যকে চরম হুঁশিয়ারি দিল ক্রেমলিন! মস্কোর কড়া বার্তা, ইউক্রেনের জন্য ড্রোন তৈরি করা ব্রিটিশ কারখানাগুলো এবার ‘অজ্ঞাত উৎস’ থেকে হামলার মুখে পড়তে পারে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে কিয়েভ পৌঁছানোর পরপরই ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এই প্রচ্ছন্ন হুমকির ঝড় উঠলো।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম কিয়েভ সফরে গিয়ে ইউক্রেনের হাতে ফরাসি-ব্রিটিশ প্রযুক্তিতে তৈরি ‘স্কাল্প’ ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশের ডিক্লাসিফাইড ব্লুপ্রিন্ট তুলে দেওয়ার ঘোষণা দেন। ২৪০ কিলোমিটার দূরপাল্লার এই শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র সুরক্ষিত বাংকার বা সামরিক ঘাঁটি নিমেষে ধ্বংস করতে সক্ষম।

মস্কো স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ব্রিটিশ সরকারের এই পদক্ষেপটি রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে সরাসরি সামরিক অংশগ্রহণের সবচেয়ে বড় প্রমাণ। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, যুক্তরাজ্য সরাসরি এই যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে এবং আগুনে ঘি ঢালছে। এর কড়া জবাব দিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যাম কিয়েভ থেকে পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, আসলে এই যুদ্ধের আগুনটা প্রথম কে জ্বালিয়েছিল?
ক্রেমলিনের প্রভাবশালী উপদেষ্টা এবং প্রাক্তন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই ফেদোরভ বিবিসি’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রীতিমতো প্রচ্ছন্ন হুমকির সুর চড়িয়েছেন। তিনি বলেন, এতদিন যা মুখে বলা হচ্ছিল, তা এবার বাস্তবে রূপ নিতে পারে। যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া খুব শিগগিরই দৃশ্যমান হবে।

হামলা ঠিক কেমন হতে পারে, তার একটি রসালো অথচ ভয়ংকর ইঙ্গিতও দিয়েছেন ফেদোরভ। তিনি যোগ করেন, বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে। এটি কোনো কারিগরি প্রতিক্রিয়া হতে পারে, যেমন অফিশিয়াল লেভেলের বাইরে থাকা কোনো ‘অজ্ঞাত উৎস’ থেকে হ্যাকার অ্যাটাক! আবার কোনো আধা-সামরিক পদক্ষেপও অসম্ভব নয়। উদাহরণস্বরূপ ইউক্রেনের জন্য যেসব ব্রিটিশ কারখানায় ড্রোন তৈরি হচ্ছে, সেখানে হঠাৎ কিছু একটা ঘটে যেতেই পারে! শতকরা ১০০ ভাগ গ্যারান্টি দিয়ে এটি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ইউক্রেন যখন গত এক বছরে নিজেদের দেশে কম খরচের ড্রোন বানিয়ে রাশিয়ার গভীরে থাকা অর্থনৈতিক ও সামরিক ঘাঁটিতে একের পর এক আক্রমণ চালাচ্ছে, ঠিক তখনই কিয়েভকে আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্লুপ্রিন্ট দিল লন্ডন। ফলস্বরূপ, যুদ্ধের রণাঙ্গন এবার ইউক্রেনের সীমানা পেরিয়ে সরাসরি যুক্তরাজ্যের মাটিতে পৌঁছে যাবে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা!
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
