রাশিয়ার সাথে চলমান যুদ্ধ বন্ধের জন্য ইউক্রেন পূর্বাঞ্চলীয় ভূখণ্ডের
অধিকার ছাড়বে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
আর প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, মারিউপোলে শেষ পর্যন্ত লড়াই চলবে। এর মধ্যে গোটা ইউক্রেনেই যুদ্ধের তীব্রতা বেড়েছে। খারকিভে রুশ রকেট হামলায় মারা গেছে কমপক্ষেপাঁচ জন।
হামলা হয়েছে লিভিভ শহরেও। সেখানের মেয়র দাবি করেছেন, একটি সামরিক ঘাঁটি এবং একটি টায়ার ফ্যাক্টরি লক্ষ্য করে চালানো রুশ হামলায় মারা গেছে কমপক্ষে সাত জন।
এদিকে, শান্তি আলোচনায় এখন পর্যন্ত যেসব বিষয়ে ঐক্যমত্য হয়েছে, সেখান থেকে কিয়েভ তার অবস্থান পরিবর্তন করেছে বলে অভিযোগ করেছে রাশিয়া।
ইউক্রেন দাবি করছে, পশ্চিমাঞ্চলের লিভিভসহ একাধিক শহরে বোমাবর্ষন করেছে রাশিয়া। এরমধ্যে খারকিভ ও লিভিভ থেকে প্রাণহানীর খবর এসেছে।
লিভিভের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একটি সামরিক ঘাঁটি এবং একটি গাড়ির টায়ার কারখানায় রুশদের চারটি রকেট হামলায় কমপক্ষে সাত জন নিহত হয়েছে।
রাজধানী কিয়েভেও বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। আর মাইকোলাইভের গভর্নর
জানিয়েছেন, ক্রমাগত রকেট হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া।
ওদিকে, দনেতস্কেও রুশ হামলায় দুজনের মৃত্যু এবং আরো চারজন আহত হবার খবর পাওয়া গেছে। শহরের গভর্নর জানিয়েছেন, হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধের জন্য পূর্বাঞ্চল ছাড়বে না তার দেশ। তিনি বলেন, ইতিহাসের বিভিন্ন সময় ইউক্রেন হয় কিছু ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে অথবা কিছু ভূখণ্ড ত্যাগের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। আমাদের এখনকার অবস্থান একেবারে স্পষ্ট।
আমরা কারও ভূখণ্ড চাই না এবং আমাদের নিজেদের ভূখণ্ডও কাউকে দেব না। আমরা নিজেদের ভূখণ্ড ত্যাগ করতে পারি না। কিন্তু আমাদের অবশ্যই রাশিয়ার সঙ্গে কিছু সংলাপ চালাতে হবে যদি তারা সক্ষম হয়। আমরা এখনও প্রস্তুত। কিন্তু দিন দিন এই সুযোগও কমে আসছে।
ইউক্রেনের দক্ষিণে রুশদের টর্চার সেলের খোঁচ পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছেন জেলেনস্কি। মানুষকে অপহরণ করে এসব চেম্বারে নির্যাতন চালানো হতো বলে দাবি করেছেন তিনি।
এর মধ্যেই মারিউপোলে ১৫০ শিশুকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে রুশ সেনাদের বিরুদ্ধে। শহরের মেয়র জানিয়েছেন, অপহৃত শিশুদের বেশিরভাগকেই হাসপাতাল থেকে তুলে নেয়া হয়েছে। আর তারা অনাথও ছিলো না।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ডেনিস সিমিহল বলেছেন, মারিউপোলের প্রতিরোধ যোদ্ধারা শেষ পর্যন্ত লড়ে যাবে। কৌশলগত শহরটির পতন হয়নি বলেও জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন: সুইডেনে কোরআন পোড়ানোর ঘটনায় সহিংসতা, আটক ২৬
অবরুদ্ধ মারিউপোলে এখনও লাখো মানুষ আটকে আছে। একদিকে রুশ বোমাবর্ষণ, অন্যদিকে খাবার পানি, ওষুধসহ জরুরি প্রয়োজনীয় জিনিসের সংকটে মানবিক পরিস্থিতি চরমে পৌঁছেছে।
একই রকম সংকট তৈরি হয়েছে লুহানস্কেও। জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধারের আবেদন জানিয়েছেন সেখানে আটকে পড়া মানুষ।