ইসরাইল ফিলিস্তিনের ওপর 'পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ' চায় বলে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের (ইউএনএইচআরসি) এক স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
২০২১ সালে গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি হামলার তদন্ত করতে একটি কমিশন গঠন করে ইউএনএইচআরসি। মঙ্গলবার (৭ জুন) এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধুমাত্র ফিলিস্তিনের অধিকৃত অঞ্চলকে দখলমুক্ত করাই যথেষ্ট নয়। ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার নিশ্চিত করতে অন্যান্য পদক্ষেপ নেয়াও অত্যাবশ্যকীয়।
তবে ফিলিস্তিনের 'দখল ছাড়ার কোন উদ্দেশ্য' ইসরাইলের নেই জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্ব জেরুসালেমসহ ফিলিস্তিনের অধিকৃত অঞ্চলের 'সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ' লাভ করতে চায় ইসরাইল।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ফিলিস্তিনি নাগরিকদের জন্য শোষণমূলক পরিবেশ ও ইসরাইলি সেটেলারদের জন্য অনুকূল পরিবেশ বজায় রেখে অধিকৃত অঞ্চলের জনসংখ্যায় পরিবর্তন আনতে চায় ইসরাইল।
ইসরাইলি নাগরিকদের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ ফিলিস্তিনিদেরকে নাগরিকত্ব না দেয়া সংক্রান্ত একটি ইসরাইলি আইনের উল্লেখ করে ইসরাইলে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের নাগরিক মর্যাদা, অধিকার ও আইনি সুরক্ষার ক্ষেত্রে ভিন্ন আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে প্রতিবেদনে।
পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুসালেমে বর্তমানে প্রায় সাত লাখ ইসরাইলি সেটেলার বাস করেন। বিপরীতে সেখানে প্রায় তিরিশ লাখ ফিলিস্তিনির বসবাস। ইসরাইলিদের বসতিগুলো সুরক্ষিত হাউজিং কমপ্লেক্স যেখানে শুধুমাত্র ইহুদিরা বাস করেন। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এটি অবৈধ।
২০২১ সালের মে মাসে গাজায় ইসরাইলের চালানো ১১ দিনব্যাপী সামরিক হামলায় ২৬০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হন। এসময় ইসরাইলে নিহত হন ১৩ জন। এর পরই তদন্ত কমিশন গঠন করে জাতিসংঘ।
একই সময়ে আল-আকসা মসজিদ কম্পাউন্ডে ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের ওপর আক্রমণ চালায় ইসরাইলি বাহিনী। এর জবাবে হামাস ইসরাইলে রকেট হামলা চালালে পূর্ব জেরুসালেমের শেখ জাররাহ এলাকা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উৎখাত করে ইসরাইল।
প্রতিবেদনের ম্যানডেটে ছিল গাজায় ইসরাইলি হামলার আগে ও পরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের তদন্ত করে সংঘর্ষের কারণ অনুসন্ধান করা।
এ প্রতিবেদনকে স্বাগত জানিয়ে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের অপরাধের বিচার করার আহবান জানিয়েছে হামাস।
এ প্রতিবেদনের প্রশংসা করে জবাবদিহিমূলক উপায়ে ইসরাইলের দায়মুক্তির অবসান ঘটানোর দাবি জানিয়েছে ফিলিস্তিন।
আরও পড়ুন: দুই শতাধিক ইউক্রেনিয় যোদ্ধার মরদেহ ফেরত দিয়েছে মস্কো
অন্যদিকে এ প্রতিবেদনকে 'টাকা ও প্রচেষ্টার অপচয়' আখ্যা দিয়ে একে ডাইনি শিকারের সাথে তুলনা করেছে ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে এ তদন্তকে বয়কট করে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ইসরাইল ও ফিলিস্তিনি এলাকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইসরাইল। এর ফলে জেনেভা ও জর্ডান থেকে সাক্ষ্য সংগ্রহ করতে হয় তদন্তকারীদের।
আগামী সপ্তাহে জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে এ প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা হবে। ইসরাইলের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে ২০১৮ সালে এ পরিষদ ত্যাগ করে যুক্তরাষ্ট্র।