দেশ থেকে পালিয়ে সিঙ্গাপুরে এসেও শান্তিতে নেই শ্রীলঙ্কার বিদায়ী প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে। কারণে, এই দেশও তাকে আশ্রয় দিতে নারাজ। বেশি দিন রাখতেও চাইছে না। ফলে বাধ্য হয়ে নতুন ঠিকানা খুঁজতে হচ্ছে গোতাবায়াকে।
নতুন ঠিকানার খোঁজে গোতাবায়া ভারত সরকারের সাথেও যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু তার সেই অনুরোধ ফিরিয়ে দিয়েছে ভারত। দিল্লির সরকারি সূত্র উল্লেখ করে ভারতীয় গণমাধ্যমে বলছে, লঙ্কার মানুষের মধ্যে বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়, এমন কিছু করব না ভারত।
৭৩ বছর বয়সী গোতাবায়া গত বুধবার প্রথমে স্ত্রীকে নিয়ে মালদ্বীপে গিয়ে আশ্রয় নেন। সেখান থেকে সিঙ্গাপুরে পৌঁছন তিনি। কিন্তু সিঙ্গাপুর প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়া হয়েছে, ১৫ দিনের বেশি তিনি সে দেশে থাকার অনুমতি পাবেন না।
সিঙ্গাপুর সরকারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত সফরে দেশটিতে এসেছেন গোতাবায়া। তিনি সিঙ্গাপুর সরকারের কাছে আশ্রয়ও চাননি।
ফলে ১৫ দিন পরে গোতাবায়াকে নতুন কোন ঠিকানায় যেতে হচ্ছে। একবার শোনা গিয়েছিলো, তিনি সিঙ্গাপুর থেকে পরে আরব আমিরাতে উড়ে যাবেন। কিন্তু, সেটিও হয়নি। গোতাবায়ার এক ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, লঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট চাইছেন আমেরিকায় চলে যেতে।
আরও পড়ুন: শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট পদ শূন্য ঘোষণা, নির্বাচন ২০ জুলাই
গত শুক্রবার শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন গোতাবায়া। তার পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছিল অর্থনৈতিক সঙ্কটে বিধ্বস্ত শ্রীলঙ্কা। প্রাণভয়ে পালানোর পর প্রেসিডেন্টের প্রাসাদেরও দখল নেয় ক্ষুব্ধ জনতা।
শনিবার শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্ট বসার কথা। দেশের সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী দু’জনেই পদত্যাগ করলে স্পিকার ৩০ দিনের জন্য প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ চালাবেন। এই সময়ের মধ্যে পার্লামেন্টের বর্তমান সদস্যদের মধ্যে থেকে নতুন প্রেসিডেন্টকে বেছে নেয়া হবে।
একাত্তর/এসজে