ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানাতে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের সামনে পদযাত্রার আয়োজন করা তিন নারীকে বেকসুর খালাস দিয়েছে সিঙ্গাপুরের একটি আদালত। অবৈধ মিছিল আয়োজনের অভিযোগে ওই তিন নারীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। কিন্তু একজন বিচারক রায় দেন, তাদের কর্মকাণ্ড অভিযোগের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এ মামলাটি সিঙ্গাপুরে ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল। আদালতে শুনানিতে ফিলিস্তিনি পতাকার রঙে পোশাক পরে এবং কেফিয়াহ স্কার্ফ পরে এই তিন তরুণীর উপস্থিতি অনলাইন জগতে ভাইরাল হয়েছিলো।
খালাস পাওয়া এক নারী ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা বিবিসিকে বলেছেন, অপ্রত্যাশিতভাবে খালাসের রায় সিঙ্গাপুরের অধিকারকর্মীদের মধ্যে নতুন শক্তি ও আশার অনুভূতি জাগাবে বলে মনে করেন তিনি। দোষী সাব্যস্ত হলে এই তিন তরুণীর প্রত্যেকের ১০ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার পর্যন্ত জরিমানা বা ছয় মাসের কারাদণ্ড হতে পারতো।
সিঙ্গাপুরে জনসমাবেশের ঘটনা খুবই বিরল। দেশটিতে বিক্ষোভের বিরুদ্ধে খুব কঠোর নিয়ম রয়েছে এবং কোনও উদ্দেশ্য প্রচারের জন্য যে কোনও সমাবেশের জন্য পুলিশের অনুমতি প্রয়োজন। কর্তৃপক্ষ ইসরাইল-গাজা যুদ্ধের সাথে সম্পর্কিত জনসমাবেশকেও কার্যকরভাবে নিষিদ্ধ করেছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইসরাইল-গাজা যুদ্ধের সাথে সম্পর্কিত সমাবেশের জন্য যে কোনো আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে; কারণ এই ধরনের ঘটনা জনসাধারণের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কারণ যুদ্ধটি একটি সংবেদনশীল বিষয়। সিঙ্গাপুর সরকারের যুক্তি, ক্ষুদ্র দেশটিতে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায়ে বিক্ষোভের নিয়ম-কানুন জরুরি। সমালোচকরা বলছেন, এসব নিয়ম মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিক সক্রিয়তাকে বাধাগ্রস্ত করে।
সামাজিক সংগঠক মোসাম্মদ সাবিকুন নাহার, কনটেন্ট ক্রিয়েটর সিতি আমিরাহ মোহাম্মদ আসরোরি এবং কোকিলা আন্নামালাই- এই তিনজনের বিরুদ্ধে গত ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় আশপাশে পুলিশের অনুমতি ছাড়া একটি পদযাত্রা আয়োজনের অভিযোগ আনা হয়েছিলো। সেই পদযাত্রায় প্রায় ৭০ জন মানুষ অংশ নেন এবং তারা ফিলিস্তিনি প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে তরমুজের মতো রং করা ছাতা বহন করেন।

আদালত রায়ে বলেছেন, যদিও নারীরা পদযাত্রাটি আয়োজন করেছিলেন, তবে তারা ‘জানতেন না’ প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের চারপাশের রাস্তাটি একটি সংরক্ষিত এলাকা। বিচারক উল্লেখ করেন, তারা একটি সাধারণ ফুটপাত ব্যবহার করেছিলেন এবং সেখানে কোনো নিষেধাজ্ঞার চিহ্ন ছিল না। বিচারক মন্তব্য করেন, প্রমাণ থেকে স্পষ্ট, তারা তিনজনই আইন ভাঙা থেকে নিজেদের বিরত রাখার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছিলেন।
সিঙ্গাপুরের প্রসিকিউটরিয়াল অফিস জানিয়েছে, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে। পুলিশ ইসরাইল-গাজা যুদ্ধ-সম্পর্কিত অন্যান্য অফলাইন এবং অনলাইন ইভেন্ট নিয়েও তদন্ত শুরু করেছে।
পুতিনের সঙ্গে ‘অর্থহীন’ বৈঠক চান না ট্রাম্প