ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চলজুড়ে বয়ে যাওয়া তীব্র তাপদাহ এখন মহাদেশটির উত্তরাঞ্চলের
দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে মহাদেশের বেশিরভাগ অংশ সূর্যের তীব্র উত্তাপে ঝলসে গেছে,
তাপমাত্রা রেকর্ড ভেঙ্গেছে এবং ভয়ংকর দাবানল বনভূমি গ্রাস করছে।
পশ্চিম ইউরোপে সোমবার ছিল রেকর্ড তাপপ্রবাহের দিন। যুক্তরাজ্যে মঙ্গলবার তাপমাত্রা বেড়ে রেকর্ড ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে বলে আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস। জারি হয়েছে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য সতর্কতা। যুক্তরাজ্যের মতোই অবস্থা ইউরোপের একাধিক দেশের।
যেনো প্রকৃতির রোষানলে পুড়ছে যুক্তরাজ্য। সোমবার দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে তাপমাত্রা রেকর্ড ৩৮ দশমিক এক ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। এটি ছিল বছরের উষ্ণতম দিন এবং উষ্ণতার রেকর্ডে তৃতীয়তম দিন। এর ফলে গলে যাচ্ছে বিমানবন্দরের রানওয়ে, ফাটল দেখা দিচ্ছে রেললাইনে।
মঙ্গলবার তাপমাত্রা আরো বেড়ে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর। এর আগে ২০১৯ সালে দেশটির কেমব্রিজ শহরে, ইতিহাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএইচএসকে ইতোমধ্যে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করেছে। রোববার থেকেই বন্ধ আছে যুক্তরাজ্যের প্রায় সব স্কুল। অনেক এলাকায় রেল ও মেট্রো ট্রেন পরিষেবা স্থগিতও করা হয়েছে।
একই অবস্থা ইউরোপের একাধিক দেশের। দক্ষিণ পশ্চিম ইউরোপে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি তাপপ্রবাহ ঘটছে। আর তা ক্রমশ উত্তরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ফ্রান্সের চ্যানেল জুড়ে, অনেক শহর ও নগরীতে সোমবার রেকর্ড সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল।
চ্যানেল উপকূলের সেন্ট ব্রিউচে পূর্ববর্তী রেকর্ড ৩৮.১ ডিগ্রি ছাড়িয়ে তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৩৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। পশ্চিমাঞ্চলীয় নঁতে শহরে কয়েক দশকের ৪০ ডিগ্রির রেকর্ড ভেঙ্গে তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দমকল কর্মীরা এখনো দুটি বিশাল দাবানল নেভাতে কাজ করছে।
ফ্রান্সের পশ্চিমাঞ্চল বিপর্যয়কর তাপমাত্রার মুখে আছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, দেশটির বেশ কয়েকটি অংশ তাদের সবচেয়ে উষ্ণতম দিনগুলো পার করছে। ওই সব অঞ্চলে দমকলকর্মীরা দাবানলের আগুন নেভাতে লড়ে যাচ্ছে। এলাকা ছেড়ে সরে যেতে বাধ্য হচ্ছে হাজারো মানুষ।
এদিকে, স্পেনের উত্তরাঞ্চলে ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। জার্মানিতে মঙ্গলবার কোনো কোনো অঞ্চলে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা হবে বলে জার্মানির আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
এই তাপদাহের মধ্যে স্পেন
ও পর্তুগালে এখন পর্যন্ত এক হাজার জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে পর্তুগাল
সরকার এই দাবদাহের কারণে দেশটিতে আগামী রোববার পর্যন্ত জরুরি অবস্থা জারি করেছে।