জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বছর শুরুর চার মাসেই আফ্রিকা ও এশিয়াজুড়ে রেকর্ড পরিমাণ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলছেন, শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে সামনের দিনগুলোতে তাপপ্রবাহ, খরা ও দাবানলের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে চলতি বছরের শুরুতেই আফ্রিকা ও এশিয়াজুড়ে রেকর্ড মাত্রায় দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তা, উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্ম যত এগোবে এবং এল নিনোর প্রভাব বাড়বে, পরিস্থিতি তত ভয়াবহ হতে পারে।

ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন নামের গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৫ কোটি হেক্টরের বেশি জমি আগুনে পুড়ে গেছে। যা আগের রেকর্ডের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি।
এছাড়া গবেষকরা বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি যুক্ত হওয়ায় এ বছর তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড তৈরি হতে পারে। এতে খরা ও দাবানলের ঝুঁকিও বাড়বে।
ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের দাবানল বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিশ্বের অনেক অঞ্চলে এখনো দাবানলের মৌসুম পুরোপুরি শুরু হয়নি। তবে বছরের শুরুতেই আগুনের এই ভয়াবহ বিস্তার এবং সম্ভাব্য এল নিনোর প্রভাব ইঙ্গিত দিচ্ছে, সামনে আরও কঠিন সময় অপেক্ষা করছে।

এল নিনো হলো বৈশ্বিক জলবায়ুর একটি ধরণ যা কয়েক বছর পর পর ঘটে। এটি মূলত মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার একটি ধরণ, যা পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর হয়ে দক্ষিণ আমেরিকার দিকে বিস্তৃত। উষ্ণ সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার এই ধরণ স্থানীয় আবহাওয়াকে প্রভাবিত করে, যার ফলে সাধারণত বিশ্বজুড়ে উষ্ণতর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
আফ্রিকায় চলতি বছরে এরিমধ্যে প্রায় ৮ কোটি ৫০ লাখ হেক্টর জমি পুড়ে গেছে। যা আগের রেকর্ডের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি।
গবেষকদের মতে, অতিবৃষ্টি থেকে হঠাৎ চরম শুষ্ক আবহাওয়ায় পরিবর্তনের কারণে সেখানে দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
এল নিনো জলবায়ুর একটি চক্রাকার প্রভাবের অংশ, যার মধ্যে রয়েছে লা নিনো, এটি হলো মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের শীতল তাপমাত্রা এবং এটি সামগ্রিক শীতল বৈশ্বিক তাপমাত্রার সাথে সম্পর্কিত। একটি নিরপেক্ষ পর্যায় এবং তারপর এল নিনো, যেখানে প্রশান্ত মহাসাগরের উপর এই উষ্ণ তাপমাত্রা উষ্ণতর বৈশ্বিক তাপমাত্রার সাথে যুক্ত থাকে।
এদিকে এশিয়ায় পুড়ে গেছে প্রায় ৪ কোটি ৪০ লাখ হেক্টর জমি। ২০১৪ সালের আগের রেকর্ডের তুলনায় যা প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ভারত, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, লাওস ও চীন।
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, এল নিনোর প্রভাবে বছরের শেষদিকে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও আমাজন বনাঞ্চলেও তীব্র তাপপ্রবাহ ও খরার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
ইরানের সঙ্গে গোপন চুক্তিতে জ্বালানি আনছে ইরাক-পাকিস্তান
ইরান সংকট মোকাবিলায় চীনের সাহায্য চান না ট্রাম্প