ইউক্রেনে চলমান সামরিক অভিযান, করোনা মহামারির প্রভাব ও পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার জেরে চলতি বছর অনেকটাই সঙ্কুচিত হয়েছে রাশিয়ার অর্থনীতি। ২০২২ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে অর্থাৎ এপ্রিল-মে-জুন মাসে রাশিয়ার অর্থনীতি প্রায় ৪ শতাংশ সঙ্কুচিত হয়েছে।
আল-জাজিরা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরিসংখ্যান পরিষেবা সংস্থা শুক্রবার এপ্রিল-জুন প্রান্তিকের জন্য মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির উপাত্ত প্রকাশ করেছে।
রুশ পরিসংখ্যান পরিষেবা সংস্থা বলছে, ২০২১ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকের পর এটিই রাশিয়ার প্রথম সংকোচন। এ সময়ের মধ্যে দেশটির পাইকারি বিক্রয় ১৫.৩ শতাংশ, খুচরা বিক্রয় ৯.৮ শতাংশ এবং উৎপাদন ৩.৩ শতাংশ কমেছে।
এর কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা পশ্চিমা বিশ্বের নিষেধাজ্ঞার প্রভাবের দিকে ইঙ্গিত করছেন। এছাড়া, তারা রাশিয়ার বাজার থেকে বিদেশি কোম্পানিগুলোর বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন।
এদিকে গত মাসে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছিল, তাদের ধারণা অনুযায়ী দেশের জিডিপি চলতি বছর ৪ থেকে ৬ শতাংশ হ্রাস পাবে।
তবে রুশ অর্থনীতি জ্বালানি রপ্তানির মাধ্যমে আবারও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
মস্কোতে এক ব্রিফিংয়ে ব্যাঙ্ক অফ রাশিয়ার ডেপুটি গভর্নর আলেক্সি জাবোটকিন বলেন, অর্থনীতি একটি নতুন দীর্ঘমেয়াদী ভারসাম্যের দিকে এগিয়ে যাবে। অর্থনীতির পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে, এর বৃদ্ধি আবার শুরু হবে।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আবারও তেল চুরির অভিযোগ সিরিয়ার
অন্যদিকে সেন্ট্রোক্রেডিট ব্যাঙ্কের প্রধান ও রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতিবিদ ইভজেনি সুভোরভ বলেছেন, সংকটটি খুব মসৃণ পথ ধরে এগিয়ে চলেছে৷
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা বা আইইএ’র ভাষ্যানুযায়ী, উচ্চ মূল্যের কারণে জুন মাসে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি থেকে রাশিয়ার আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে।
আইইএ এটিও উল্লেখ করেছে যে, ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানে রাশিয়ার রপ্তানি কমলেও চীন এবং ভারতে বৃদ্ধি পেয়েছে।
একাত্তর/আরবিএস