সোমালিয়ায় হোটেলে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় বহু হতাহত

পূর্ব আফ্রিকার দেশ সোমালিয়ায় ভয়াবহ জঙ্গি হামলা হয়েছে। দেশটির রাজধানী মোগাদিসুর একটি হোটেলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়েছে আল-শাবাব জঙ্গি গোষ্ঠী। এতে এখন পর্যন্ত ১৬ জন নিহত ও কমপক্ষে ৪০ জন আহত হবার খবর পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হোটেলের ভেতরে অসংখ্য অতিথিকে জিম্মি করেছে হামলাকারীরা। এই মুহূর্তে হোটেলে ভেতরে অবস্থান করছেন জঙ্গি গোষ্ঠির সদস্যরা। হোটেলটি ঘিরে রেখেছে নিরাপত্তা বাহিনী। 

রাজধানী মোগাদিসুর অন্যতম জনপ্রিয় হোটেল হায়াতকে লক্ষ্য করে দুটি গাড়িবোমা হামলা চালানো হয়েছে। প্রথম হামলাটি চালানো হয় হোটেলের নিরাপত্তাচৌকিতে আর পরের হামলা চালানো হয় হোটেলের ফটকে। এরিমধ্যে হামলার দায় নিয়েছে আল-শাবাব জঙ্গিগোষ্ঠী।


গাড়িবোমা হামলার পরই এলোপাতারি গুলি ছুড়তে ছুড়তে হোটেলে ঢুকে পড়ে জঙ্গিরা। পুলিশ এবং নিরাপত্তা রক্ষীরা হোটেল ঘিরে ফিরলে পর পর গ্রেনেড ছুড়তে থাকে জঙ্গিরা। এতে হোটেলের নানা জায়গায় আগুন ধরে যায়।

মোগাদিসুর পুলিশ বিভাগের এক কর্মকতার দাবি, হোটেল থেকে কালো ধোঁয়া বেরোতে দেখা যাচ্ছে। হোটেলের মধ্যেই জঙ্গিরা লুকিয়ে রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। হামলায় মোট কত জনের মৃত্যু হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়।


শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টার সময়ও হোটেলের ভেতর গুলির শব্দ শোনা গেছে। শক্তিশালী বিস্ফোরণের কারণে পাশের রাস্তায়ও ফাটল তৈরি হয়েছে। হামলার পর ২০ ঘণ্টা পার হলেও হোটেলে ভেতরে আটকে পড়া জিম্মিদের মুক্ত করতে পারেনি নিরাপত্তা বাহিনী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেনাবাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের সংঘর্ষে হোটেলের বড় একটি অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে হোটেল থেকে কালো ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়। পুলিশ এবং নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। 

আরও পড়ুন: এক বুক আশা নিয়ে অপেক্ষায় নিখোঁজ জেলেদের স্বজনরা

মোগাদিসুর ওই এলাকায় কয়েকটি হোটেল রয়েছে। এসব হোটেলের মধ্যে হায়াত জনপ্রিয়। এ হোটেলে সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। সোমালি সরকারকে উৎখাতে ১০ বছরের বেশি সময় ধরে লড়াই চালিয়ে আসছে আল-শাবাব।

প্রসঙ্গত, গত মে মাসে সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হন হাসান শেখ মহামুদ। তিনি দায়িত্বভার নেওয়ার তিন মাসের মধ্যেই প্রথম এত বড় জঙ্গি হামলা হলো দেশটির রাজধানীতে।


একাত্তর/আরবিএস