দক্ষিণ সিরিয়ায় জাতিগত সংঘর্ষে কমপক্ষে ৩০ জন নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি শান্ত করতে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পাঠিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দামেস্কের মহাসড়কে একজন দ্রুজ ব্যবসায়ীকে অপহরণের দুই দিন পর রবিবার সুইদা প্রদেশের দ্রুজ অধ্যুষিত শহরে এই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।
সুইদা শহরে বেদুইন সুন্নি উপজাতি এবং দ্রুজ ধর্মীয় সংখ্যালঘু সদস্যদের মধ্যে সহিংসতা বেশ কয়েকজন আহতও হয়েছেন। সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংঘাতে কমপক্ষে ৩০ জন নিহত হয়েছেন। তবে যুদ্ধ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস মৃতের সংখ্যা ৩৭ বলছে।
এছাড়া, সুইদার গভর্নর মুস্তাফা আল-বাকুর তার নির্বাচনী এলাকার জনগণকে ‘আত্মসংযম অনুশীলন এবং সংস্কারের জাতীয় আহ্বানে সাড়া দেয়ার’ আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি, সব পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির আধ্যাত্মিক নেতারাও।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিস্থিতিকে একটি ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা’ বলে অভিহিত করেছে এবং বলেছে যে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। ডিসেম্বরে ইসলামপন্থি নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী বাহিনী বাশার আল-আসাদকে উৎখাত করার পর থেকে এটি দেশটিতে মারাত্মক সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সর্বশেষ প্রাদুর্ভাব।
রবিবার বেদুইন উপজাতি এবং দ্রুজ মিলিশিয়াদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয় সুইদা শহরের আল-মাকওয়াস পাড়ায়। বেদুইন অধ্যুষিত এই এলাকাটি সশস্ত্র দ্রুজ যোদ্ধারা ঘিরে ফেলে এবং পরে দখল করে নেয় বলে জানা গেছে। দ্রুত এই লড়াই সুইদা প্রদেশের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়ে, উপজাতিরা শহরের পশ্চিম ও উত্তর উপকণ্ঠে অবস্থিত দ্রুজ শহর এবং গ্রামগুলোতে আক্রমণ শুরু করে বলে জানা গেছে।
মে মাসের শুরুতে, রাজধানী দামেস্কের দুটি শহরতলিতে এবং সুইদা প্রদেশে দ্রুজ বন্দুকধারী, নিরাপত্তা বাহিনী এবং মিত্র সুন্নি ইসলামপন্থি যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘর্ষে ১৩০ জনেরও বেশি লোক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সেই লড়াইয়ের পরিপ্রেক্ষিতে, সরকার সুইদা প্রদেশে স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী ও দ্রুজ মিলিশিয়াদের সাথে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে।
ইন্দোনেশিয়ায় ৬.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামির আশঙ্কা নেই