তাপদাহ-খরা আর দাবানলে বিপর্যস্ত চীন

তাপপ্রবাহ ও খরার পাশাপশি দাবানালে বিপর্যস্ত বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ চীন। দীর্ঘ এক মাসের তাপপ্রবাহ এবং সবচেয়ে কম বৃষ্টির কারণে নজিরবিহীন খরায় চীন। 

শুকিয়ে গেছে চীনের দীর্ঘতম নদী ইয়াংসি। খরার কারণে উপনদী ও লেকগুলোর পানির স্তর অস্বাভাবিক হারে নীচে নেমে গেছে। বেরিয়ে এসেছে নদীগর্ভের মাটি।

পানির নীচ থেকে বেরিয়ে এসেছে ছয়শো বছরের পুরানো বৌদ্ধ পাথর। পানির স্তর নেমে যাওয়ায় জলবিদ্যুত কেন্দ্রে বিদ্যুত উতপাদনের সক্ষমতা কমে গেছে। 

বিদ্যুত সাশ্রয়ে জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে কারখানা বন্ধ, দোকান খোলা রাখার সময় কমানো এবং বিভিন্ন অফিসে শীতাতাপ নিয়ন্ত্রক যন্ত্র বন্ধ রাখা হচ্ছে। 

নদী তীরবর্তী বড় শহরগুলো যেমন সাংহাই বিখ্যাত ওয়াটারফ্রন্ট লাইট বন্ধ করে দিয়েছে। লুঝুও শহরে রাতের বেলা বন্ধ রাখা হচ্ছে সড়ক বাতি।

এদিকে চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চংকিং শহরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে দাবানল। মাত্র পাঁচ দিনেই ছড়িয়ে পড়া এই দাবানলে ভস্ম হয়ে গেছে বিশাল বনাঞ্চল। 

শুধু গাছপালা না এই দাবানলে ক্ষতির মুখোমুখি পাহাড়ও। মঙ্গলবার দাবানলের কারণে প্রায় দেড় হাজার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। 

পাঁচ হাজার দমকলকর্মী, পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবকসহ সাতটি দমকলবাহিনীর হেলিকপ্টার এই দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। তীব্র তাপদাহের ফলে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে চীন। 

অন্তত ১৬৫টি শহর ও কাউন্টিতে সর্বোচ্চ এই সতর্কতা জারি করা হয়। দেশটির আরও ৩৭৩টি শহরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতা 'অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি করে। 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে এসব অঞ্চলে আগামী তিনদিনে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করবে।


একাত্তর/এআর