মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু শহরে মাঙ্কিপক্স ভাইরাসের প্রকোপ কিছুটা কমে আসলেও বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে কারণ ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব শীর্ষে পৌঁছেছে। এরইমধ্যে দেশটিতে মাঙ্কিপক্সে আক্রান্তের সংখ্যা ১৭ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
শনিবার মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের বরাতে এসব তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু।
‘ক্যাপিটল হিল’ পত্রিকার প্রবন্ধে বলা হয়েছে, মাঙ্কিপক্স ছড়িয়ে পড়ার পর মার্কিন সরকার কোভিড মহামারীর মতোই তার অকার্যকর পদক্ষেপের পুনরাবৃত্তি করছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী মাঙ্কিপক্সের সংক্রমণ গত সপ্তাহে ২১% হ্রাস পেয়েছে। এক মাস ধরে সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রবণতার পরে এ হ্রাস দেখা গেলো। কিন্তু সংস্থাটি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে মাঙ্কিপক্সের শনাক্ত বাড়তে পারে।
নিউইয়র্ক টাইমস-এ প্রকাশিত কলামে প্রাক্তন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কমিশনার ডক্টর স্কট গটলিব লিখেছেন, মাঙ্কিপক্সের প্রতি আমাদের দেশের প্রতিক্রিয়া কোভিড এর মতোই। এখন যদি মাঙ্কিপক্স মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে পদার্পণ করে এবং একটি স্থানীয় ভাইরাসে পরিণত হয়, তবে এটি আধুনিক সময়ের সবচেয়ে খারাপ জনস্বাস্থ্য ব্যর্থতাগুলোর মধ্যে একটি হবে।
তিনি যোগ করেন, আমাদের ত্রুটিগুলো রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে হুমকিতে পরিণত হচ্ছে। এই জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য আমাদের কাছে কোনো ফেডারেল অবকাঠামো নেই।
এখন পর্যন্ত আফ্রিকার বাইরে ৮০টি দেশে পৌঁছেছে এ ভাইরাস। অনেক অঞ্চলে ভাইরাসটি স্থানীয়ভাবে ছড়াচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সমকামী এবং উভকামী পুরুষদের মধ্যে এর বিস্তার বেশি ঘটেছে। এছাড়া সংক্রামিত ব্যক্তির সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে মাঙ্কিপক্স।
আরও পড়ুন: ৯ সেকেন্ডের বিস্ফোরণে গুঁড়িয়ে গেলো ভারতের ‘টুইন টাওয়ার’
অন্যদিকে ব্রিটেনে যারা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন কেবল এমন ব্যক্তিদেরই মাঙ্কিপক্সের টিকার মূল ডোজের এক-পঞ্চমাংশ প্রদান করা হবে। টিকার বৈশ্বিক ঘাটতি সত্ত্বেও সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষকে রক্ষায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলা জানায় কর্তৃপক্ষ।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি'র খবরে বলা হয়েছে, এরইমধ্যে টিকা প্রদানের এ পদ্ধতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ও যুক্তরাজ্যে অনুমোদন পেয়েছে। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নয় বাইডেন প্রশাসন।
এ ভাইরাসের টিকা চেয়ে রাস্তায় বিক্ষোভও করছে মার্কিন নাগরিকরা। টিকার দাবিতে রোজই নতুন নতুন শহরে মিছিল করছেন তারা।
কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞ এল সদর বলেছেন, এই রোগের প্রতিক্রিয়ায় সরকারের অবস্থান নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন হলেও, তিনি বিশ্বাস করেন এটি নিয়ন্ত্রণে আনার এখনও একটি সুযোগ রয়েছে।
একাত্তর/আরবিএস