ভাইরাসজনিত প্রাণঘাতী রোগ অ্যাকোয়ার্ড ইমিউনো ডেফিসিয়েন্সি সিনড্রোম বা এইডসের টিকা তৈরি করার দাবি করছে রাশিয়া। যদি এই প্রকল্প সফল হয়, তাহলে হবে এটি বিশ্বে এইডসের প্রথম টিকা।
রুশ চিকিৎসা ও অণুজীববিজ্ঞান গবেষণা বিষয়ক সরকারি প্রতিষ্ঠান গামালিয়া ন্যাশনাল সেন্টারের বরাতে সংবাদমাধ্যম রাশিয়া টুডে বুধবার (২৭ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছে।
রাশিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গামালিয়া ন্যাশনাল সেন্টার এরইমধ্যে টিকা তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছে। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী দুই বছর বা তারও কম সময়ের মধ্যেই এই টিকা বাজারে আসার সম্ভাবনা আছে।
প্রতিষ্ঠানটির মহামারিবিদ্যা বিভাগের প্রধান ভ্লাদিমির গুশচিন বুধবার এক সাক্ষাৎকারে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা রিয়া নভোস্তিকে বলেন, এই টিকা তৈরিতে সর্বাধুনিক এমআরএনএ (ম্যাসেঞ্জার রাইবো-নিউক্লিয়িক অ্যাসিড) প্রযুক্তি অনুসরণ করা হবে।
এমআরএনএ বা ম্যাসেঞ্জার রাইবো-নিউক্লিইক এসিড পদ্ধতিতে এই টিকা তৈরি করা হচ্ছে।
প্রচলিত পদ্ধতিতে টিকা প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে মৃত বা বিশেষভাবে প্রক্রিয়াজাত জীবাণু ব্যবহার করা হয়, তবে এমআরএনএ প্রযুক্তিতে এ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় না, বরং ব্যবহার করা হয় এক ধরনের প্রোটিন—যা দেহের অভ্যন্তরে প্রবেশের পর কোনো নির্দিষ্ট জীবাণুর বিরুদ্ধে মানবদেহের সহজাত প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে বহুগুণ শক্তিশালী করে।
এইডস হলো হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস (এইচআইভি) দ্বারা সৃষ্ট একটি অবস্থা যেখানে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এইচআইভি ভাইরাস শরীরের টি-সেল ধ্বংস করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়, ফলে শরীর বিভিন্ন সংক্রমণ ও ক্যান্সারের ঝুঁকিতে পড়ে এবং এইডসে আক্রান্ত ব্যক্তি শেষ পর্যন্ত মারা যায়। এইডস নিজে কোনো রোগ নয়, এটি এইচআইভি ভাইরাসের চূড়ান্ত পর্যায়।
সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত, বীর্য, যোনিপথের তরল এবং বুকের দুধের মাধ্যমে এইচআইভি ছড়ায়। অরক্ষিত যৌনতা, সংক্রামিত সূঁচ বা সিরিঞ্জ ভাগাভাগি, এবং মা থেকে সন্তানে এইচআইভি সংক্রমণ হতে পারে।
বর্তমানে এইডসের কোনো নিরাময় নেই, তবে চিকিৎসা ও প্রতিরোধের কৌশলের অগ্রগতি এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করেছে।
ডাকসু: প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা, দুপুরে ছাত্রদলের ইশতেহার ঘোষণা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা আজ