সৌদি আরবের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে রানি এলিজাবেথের শেষকৃত্যে অংশ নেয়ার দাওয়াত দেয়ায় প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে ব্রিটেনের মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে।
রোববার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি দূতাবাসের সাথে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, 'এমবিএস' নামে পরিচিত যুবরাজ এই সপ্তাহে লন্ডনে আসবেন। তবে তিনি সোমবার রানির শেষকৃত্যে যোগ দেবেন কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয়।
হত্যাকাণ্ডের শিকার সৌদি সাংবাদিকের বাগদত্তা হ্যাটিস গেঙ্গিজ বলেছেন, তাকে আমন্ত্রণ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের স্মৃতির প্রতি একটি কলঙ্ক। যুবরাজ লন্ডনে অবতরণ করার সময় তাকে গ্রেপ্তার করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক অস্ত্র ব্যবসার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালায় এমন সংস্থা ক্যাম্পেইন এগেইনস্ট দ্য আর্মস ট্রেড অভিযোগ করে বলছে, সৌদি আরব এবং অন্যান্য উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলো তাদের মানবাধিকার বিষয়ক দুর্নাম ঘোচানোর জন্য রানির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াকে ব্যবহার করছে।
সংস্থাটি মনে করে আট বছর আগে ইয়েমেনে বিপর্যয় সৃষ্টিকারী যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে, ব্রিটেন সেখানে যুদ্ধরত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের কাছে ২৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অস্ত্র বিক্রি করেছে।
আরও পড়ুন: ইউক্রেনে রুশ অভিযান নিয়ে মার্কিন কর্তারা দ্বিধাবিভক্ত
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ'র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ২০১৮ সালে ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতরে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগজিকে হত্যা এবং তার মরদেহ টুকরো টুকরো করার আদেশ দিয়েছিলেন সৌদি যুবরাজ।
তবে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স এবং তার সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এর পর থেকে পশ্চিমা বিশ্বে তিনি তার গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছেন এবং ওই অভিযোগ ওঠার পর থেকে এপর্যন্ত তিনি আর ব্রিটেনে যাননি।