ইউক্রেনের চার অঞ্চলকে নিজের করে নিচ্ছে রাশিয়া

বিতর্কিত গণভোটের পর ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়ার অংশ হিসেবে ঘোষণা দিতে চলেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। 

শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে লুহানস্ক, দোনেৎস্ক, জাপোরিজ্জিয়া ও খেরসন অঞ্চলকে রাশিয়া নিজেদের বলে ঘোষণা করবে বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। 

এর আগে রুশ কর্তৃপক্ষ দাবি করে, পাঁচ দিন ধরে অনুষ্ঠিত গণভোটে প্রায় নিরঙ্কুশভাবে রাশিয়ায় যোগদানের পক্ষে ভোট দিয়েছেন ওই চার অঞ্চলের বাসিন্দারা। 

শুক্রবারের অনুষ্ঠানে ভ্লাদিমির পুতিন ক্রেমলিনে ভাষণ দেবেন বলে জানা গছে। ইতোমধ্যে মস্কোর রেড স্কয়ারে একটি মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। ইউক্রেনের চার অঞ্চলকে রাশিয়ার অন্তর্ভুক্ত ঘোষণা করে টানানো হয়েছে বিলবোর্ড। 

২০১৪ সালে রাশিয়া যখন ক্রিমিয়া দখল করে, তখনও একইভাবে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার অংশ হিসেবে ঘোষণা করে মঞ্চ থেকে বিজয়ী ভাষণ দেন প্রেসিডেন্ট। 

তবে, রাশিয়ার আয়োজিত এই গণভোট পশ্চিমা বিশ্ব কর্তৃক ব্যাপক সমালোচিত হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়া স্বাধীনভাবে মনিটরিং করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। 

এই গণভোটের জেরে রাশিয়ার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যানালিনা বেরবক অভিযোগ করে বলেছেন, ওই চার অঞ্চলের বাসিন্দাদেরকে বন্দুকের মুখে বাসা ও অফিস থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে ভোট দিতে বাধ্য করা হয়েছে। 

আরও পড়ুন: সু চির আরও তিন বছরের কারাদণ্ড

এদিকে, রাশিয়া যে চারটি অঞ্চল নিজেদের বলে ঘোষণা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এখনও সেসব অঞ্চলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে নেই। লুহানস্কের প্রায় পুরোটাই রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, দোনেৎস্কের মাত্র ৬০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ মস্কোর কাছে রয়েছে। 

রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের সাত মাস পর ওই চারটি অঞ্চলের প্রত্যেকটিতেই পুরোদমে যুদ্ধ চলছে। জাপোরিজ্জিয়ার রাজধানী এখনও ইউক্রেনের দখলে রয়েছে, আর খেরসনের দখলের জন্য দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। 


একাত্তর/এসজে