বাসিন্দাদের অবিলম্বে খেরসন ত্যাগের নির্দেশ রাশিয়ার

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর খেরসন থেকে বেসামরিক নাগরিকদের অবিলম্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনীয় সেনারা শহরটির দিকে অগ্রসর হওয়ায় সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি মস্কোর। এ কারণে শনিবার (২২ অক্টোবর) বেসামরিক নাগরিকদের খেরসন ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এরআগে ইউক্রেনীয় বাহিনীর অগ্রগতির মুখে বৃহস্পতিবার (১৩ অক্টোবর) অধিবাসীদের দ্রুত সরে আসার পরামর্শ দিয়েছিল রাশিয়া। বলা হয়, নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে অধিবাসীদের ওই অঞ্চল ত্যাগ করা উচিত।

ওই ঘোষণার পরপরই খেরসন শহর ছাড়তে শুরু করেন স্থানীয়রা। গত কয়েক দিন ধরে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ দিনিপ্রো নদী পেরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে গেছেন। তবে শনিবার নতুন করে সতর্ক করার পর দিনিপ্রো নদীর আশপাশে মানুষের ঢল নেমেছে। 

টেলিগ্রামে এক বিবৃতিতে খেরসনের রুশ কর্তৃপক্ষ বলেছে, আসন্ন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে শহরে ব্যাপক গোলাগুলির ঝুঁকি এবং সন্ত্রাসী হামলার হুমকি রয়েছে। এ কারণে বেসামরিক নাগরিকদের অবিলম্বে শহর ছেড়ে দিনিপ্রো নদীর বাম (পূর্ব) তীরে যাওয়া উচিত।


ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আপনার পরিবার ও বন্ধুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। সাথে মূল্যবান নথি, টাকা, জিনিসপত্র এবং জামাকাপড় নিতে ভুলবেন না।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,বিবৃতিতে রাশিয়ার নিয়োগকৃত প্রশাসনের সব বিভাগ এবং মন্ত্রণালয়ের কর্মীদেরও অবিলম্বে খেরসন ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: নিরপেক্ষ ভোটে ১০ আসনও পাবে না আওয়ামী লীগ: ফখরুল

সবশেষ পাওয়া তথ্য বলছে, খেরসন শহরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী। রুশ সেনাদের ঘিরে ফেলার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে ইউক্রেন। 

এদিকে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার খেরসন অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ রেখা অতিক্রম করতে প্রচেষ্টা চালায় ইউক্রেনীয় বাহিনী। যা প্রতিহত করেছে রাশিয়া। 

উল্লেখ্য, ৩০ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন খেরসন, জাপোরিঝঝিয়া, দোনেৎস্ক ও লুহানস্ককে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে ঘোষণা করেন। ওই ঘোষণার পরপরই নতুন করে পাল্টা আক্রমণ শুরু করে ইউক্রেন। এরইমধ্যে কিছু অঞ্চল পুনরুদ্ধার করেছে তারা। যদিও রাশিয়া বলছে, এখনও পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে।


একাত্তর/আরবিএস