কিয়েভসহ ইউক্রেনজুড়ে আবারো মিসাইল হামলা

রাজধানী কিয়েভসহ ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়া আবারো বড় ধরণের মিসাইল হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা। এ হামলার ফলে বহু জায়গায় বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। 

সোমবার (৩১ অক্টোবর) বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিয়েভে কমপক্ষে দুইটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। আক্রান্ত এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। 

বার্তাসংস্থা রয়টার্স প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানিয়েছে, কিয়েভে অন্তত ১০টি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যুতের পাশাপাশি মোবাইল সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে শহরের বিভিন্ন এলাকায়।

এদিকে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের খারকিভ শহরে জরুরি অবকাঠামোতে হামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শহরের মেয়র ইহর তেরেখভ। এছাড়াও জাপোরিঝঝিয়া ও চেরকাসি শহরেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপোল বন্দরে রাশিয়ার নৌবহরে ড্রোন হামলার অভিযোগের পরপরই ইউক্রেনে এ হামলার ঘটনা ঘটলো। একই অজুহাতে জাতিসংঘ ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় সই করা শস্য রপ্তানি চুক্তি থেকেও সরে দাঁড়িয়েছে তারা। 

রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়ই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শস্য রপ্তানিকারক দেশগুলরমধ্যে অন্যতম। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়া শস্য রপ্তানি বন্ধ করে দেয়ায় বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছিল। 

ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর মুখপাত্র ইয়ুরি ইহনাত জানিয়েছেন, হামলা চালাতে নিজেদের কৌশলগত বোমারু বিমান ব্যবহার করেছে রাশিয়া। 

এ হামলার নিন্দা জানিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দপ্তরের চিফ অব স্টাফ আন্দ্রি ইয়ারমাক টেলিগ্রাম অ্যাপে লিখেছেন, 'পরাজিত রাশিয়ানরা বেসামরিক স্থাপনার ওপর হামলা চালিয়েই যাচ্ছে'।  

শনিবার (২৯ অক্টোবর) কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার নৌবহরে ড্রোন হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছে রাশিয়া। এ হামলায় যুক্তরাজ্যের সামরিক বিশেষজ্ঞরা সহায়তা করেছে বলে অভিযোগ তাদের। এছাড়াও হামলায় ব্যবহৃত ড্রোনের যন্ত্রাংশ কানাডায় তৈরি করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা। 

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবা বলেন, এসব হামলাকে 'প্রতিক্রিয়া' বলে এগুলোকে সমর্থন করবেন না। রাশিয়া এটি করছে কারণ তাদের হাতে এখনও মিসাইল আর ইউক্রেনীয়দের হত্যার ইচ্ছা আছে। 

আরও পড়ুন: তিন দশক পর নারী সুরক্ষা আইন সংস্কার করলো চীন

এ অভিযোগের সমর্থনে প্রমাণ দিতে না পারলেও মস্কো জানিয়েছে, হামলায় ব্যবহৃত ১৬টি ড্রোন পরীক্ষানিরীক্ষা করে তারা জানতে পেরেছে, ওডেসা শহরের কাছে উপকূল থেকে ড্রোনগুলো চালনা করা হয়।

এ ব্যাপারে ইউক্রেন কোনও মন্তব্য না করলেও, রাশিয়া 'বিরাট মাত্রায় মিথ্যা দাবি করছে' বলে অভিযোগ করেছে যুক্তরাজ্য। 


একাত্তর/এসজে