রাশিয়ান নৌবহরে ড্রোন হামলার অভিযোগে তুরস্ক ও জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সই করা শস্য রপ্তানি চুক্তি থেকে সরে দাঁড়িয়েছে রাশিয়া। এবার ইউক্রেন থেকে বিশ্বব্যাপী শস্য রপ্তানি অব্যাহত রাখতে রাশিয়া কিছু শর্ত দিয়েছে বলে জানিয়েছে তুরস্ক।
বুধবার (২ নভেম্বর) তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু বলেন, শস্য রপ্তানি চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে ঐকমত্যে পৌঁছানো যাবে বলে বিশ্বাস করে আঙ্কারা। তবে আগে নিজেদের শস্য ও সার রপ্তানি নিশ্চিত করতে চায় মস্কো।
রাশিয়া বলছে, কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার নৌবহরে হামলার ফলে রাশিয়া সেখান থেকে আসা-যাওয়া করা বেসামরিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না। তাই চুক্তি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। তবে একে মিথ্যা অজুহাত বলে আখ্যা দিয়েছে ইউক্রেন।
এদিকে, রাশিয়ার ঘোষণার পরও কৃষ্ণসাগর দিয়ে শস্য বহনকারী জাহাজ চলাচল করছে। তবে ইনস্যুরেন্স কোম্পানিগুলো আর নতুন করে চুক্তি না করায় তা শিগগিরই বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কাভুসোগলু জানান, রাশিয়ার জাহাজের ওপর সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষিতে তাদের নিরাপত্তা বিষয়ক কিছু দাবিদাওয়া রয়েছে। নিজেদের সার ও শস্য রপ্তানি নিয়ে উদ্বিগ্ন মস্কো।
তিনি আরও বলেন, এসব পণ্য নিষেধাজ্ঞার আওতায় না পড়লেও, এগুলো বহনকারী জাহাজ বন্দরে ভিড়তে পারছে না। এগুলোর ইনস্যুরেন্সও করা যাচ্ছে না এবং অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে না। ফলে অনেক দেশের জাহাজ এসব পণ্য বহন করা থেকে বিরত থাকছে।
আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গের বহুতলে বিস্ফোরণ, অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কা
অন্যদিকে, কৃষ্ণসাগর দিয়ে ইউক্রেনের শস্য রপ্তানি বন্ধ করতে রাশিয়ার এসব প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে বিশ্ববাসীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
পৃথিবীর অন্যতম শস্য ও তেলবীজ রপ্তানিকারক দেশ ইউক্রেন। ইউক্রেন থেকে এসব পণ্য রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় অনেক দেশে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেছে।
একাত্তর/এসজে