যুদ্ধের প্রস্তুতি জোরদারের নির্দেশ দিলেন শি

চীনা সশস্ত্র বাহিনীকে যুদ্ধের প্রস্তুতি জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তিনি বলেন, পুরো সশস্ত্র বাহিনীর উচিত যুদ্ধের ক্ষমতা উন্নয়নের ওপর সর্বশক্তি ব্যবহার করা এবং যুদ্ধ জয়ের ক্ষমতা দ্রুত বাড়িয়ে নতুন যুগে চীনের সশস্ত্র বাহিনীর দায়িত্ব পালন করা।

দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিআরআই জানায়, মঙ্গলবার (৮ নভেম্বর) কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের জয়েন্ট অপারেশনস কমান্ড সেন্টার পরিদর্শনের সময় এসব কথা বলেন শি। 

এ সময় চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) বিংশতম জাতীয় কংগ্রেসের চেতনায় সার্বিকভাবে সেনা প্রশিক্ষণ ও যুদ্ধের প্রস্তুতি জোরদারের দৃঢ়প্রতিজ্ঞা প্রতিফলনের জন্য তিনি কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে পরামর্শ দেন।

শি বলেন, সিপিসি’র বিংশতম জাতীয় কংগ্রেস সার্বিকভাবে সমাজতান্ত্রিক আধুনিক দেশ, চীনা জাতির মহান পুনরুত্থানসহ সমস্ত পরিস্থিতির দিক দিয়ে প্রতিরক্ষা ও সেনা গঠনে কৌশলগত কার্যক্রম প্রণয়ন করেছে। পুরো বাহিনীর উচিত সে চেতনায় বাস্তব অভিযানের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নের নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করা।

তিনি আরও বলেন, জয়েন্ট অপারেশনস কমান্ড সেন্টার সিপিসি’র কেন্দ্রীয় কমিটি ও কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের কৌশলগত কমান্ড দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। যার অবস্থান ও দায়িত্ব খুব গুরুত্বপূর্ণ। সবার উচিত দায়িত্ব ও কর্তব্যে মনোযোগ দিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিচার করে সামরিক সংগ্রাম জোরদার করে বাস্তব পরিস্থিতি মোকাবিলা করা।

নতুন যুগে চীনা বাহিনী কার্যকরভাবে নিজের দায়িত্ব পালন করে আরও বড় অবদান রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন শি।  

এর আগে সোমবার (৭ নভেম্বর) চীনের অন্তত ৬৩ যুদ্ধবিমান ও চারটি যুদ্ধজাহাজ তাইওয়ানের চারপাশ ঘিরে মহড়া দিয়েছে। ধারনা করা হচ্ছে, তাইওয়ানের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে চীন।  

এক বিবৃতিতে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এর মধ্যে ৩১টি যুদ্ধবিমান দুই দেশের মধ্যবর্তী নিয়ন্ত্রণরেখা অতিক্রম করে তাইওয়ানের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল। 

তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী চু কুয়ো-চেঙ জানিয়েছিলেন, তাইওয়ান চীনের হামলা প্রতিহত করে তাদের ভূখণ্ড রক্ষায় পুরোপুরি প্রস্তুত।

আরও পড়ুন: ২১০০ সালে গরমে ইউরোপে বছরে ৯০ হাজার লোক মৃত্যুর আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো বলছে, তাইওয়ানকে সামরিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত তারা। 

গেলো কয়েক মাস ধরে দেশ দু'টির মধ্যে এ নিয়ে উত্তেজনার পারদ বাড়ছে। 

উল্লেখ্য, ঐতিহাসিকভাবে তাইওয়ান চীনের অংশ হলেও অঞ্চলটি চীনের থেকে আলাদা হতে চায়। কিন্তু আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্ন তাতে রাজি নয় চীন। শি প্রশাসন 'এক চীন নীতি'তে অনড়।


একাত্তর/আরবিএস