মাঝ আকাশে সহযাত্রীর প্রাণ বাঁচালেন ভারতীয় নার্স

ভারতে মাঝ আকাশে উড়োজাহাজের এক সহযাত্রীর প্রাণ বাঁচিয়ে প্রশংসিত হচ্ছেন এক নার্স। আর এই ঘটনা ঘটেছে সেই ফ্লাইটেই, যখন সেবিকা হিসেবে নিজের কাজের জন্য ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল পুরস্কার নিতে যাচ্ছিলেন তিনি। 

বুধবার (৯ নভেম্বর) বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গীতা পি নামের ওই নার্স কেরালা থেকে দিল্লি যাচ্ছিলেন ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল পুরস্কার গ্রহণ করতে। তবে টেকঅফের আধা ঘণ্টা পর বিমানের ক্রু এক যাত্রীর জন্য ডাক্তারি সহায়তা চেয়ে ঘোষণা দেন। 

ওই ফ্লাইটে সুমন নামের এক সেনাসদস্য কাশ্মীর যাচ্ছিলেন। নিজের আসনেই অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার পর তিনি আরও কোনও সাড়া দিচ্ছিলেন না। এমনকি তার হৃদস্পন্দনও পাওয়া যাচ্ছিল না। 

এসময় সুমনকে সিপিআর (কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন) দেন গীতা। বিমানে থাকা আরেক চিকিৎসক ক্রুর কাছে থাকা দুই বোতল আইভি ফ্লুয়িড নিয়ে সুমনের ওপর প্রয়োগ করেন। 

এর কিছুক্ষণ পরই সুমনের জ্ঞান ফিরে আসে। ঘণ্টাখানেকের মধ্যে সুমন খাবার খেতে সক্ষম হন। বিমান দিল্লি পৌঁছানোর পর তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। 

ওই বিমানে থাকা আরেক চিকিৎসক ড. মোহাম্মদ অশীল বলেন, প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন গীতা হয়তো ওই রোগীর আত্মীয়। পরে তিনি জানতে পারেন, ২০১৯ সালে কেরালা সরকারের কাছ থেকে সেরা নার্সের পুরস্কার পেয়েছিলেন গীতা। 

তিনি বলেন, এটি অসাধারণ যে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল পুরস্কার নিতে তিনি দিল্লি যাচ্ছিলেন, আর সেই ফ্লাইটেই এক রোগীর জীবন বাঁচালেন তিনি। 

আরও পড়ুন: ন্যাটো'র সদস্য হতে তুরস্কের সব শর্ত পূরণে রাজি সুইডেন

২০২০ সালে এই পুরস্কারটি যেতেন গীতা। তবে করোনা মহামারির কারণে তখন ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে পুরস্কার দেয়া হয়। এবার আগের তিনিসহ অন্যান্য বিজয়ীদের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছ থেকে সশরীরে পুরস্কার নিতে দিল্লিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়। 

২০১৮ সালে নিপাহ ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের সময় অসামান্য কৃতিত্বের জন্য গীতাকে এ পুরস্কার দেয়া হয়। 


একাত্তর/এসজে