উত্তর কোরিয়ার উৎক্ষেপণ করা সর্বশেষ আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানার জন্য যথেষ্ট ছিল বলে দাবি করেছে জাপান।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৮ নভেম্বর) সকায় সোয়া দশটায় পিয়ংইয়ং থেকে ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি জাপানের হোক্কাইডো থেকে ২১০ কিলোমিটার পশ্চিমে সমুদ্রে গিয়ে পড়ে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি ছয় হাজার ১০০ কিলোমিটার উচ্চতায় উঠে এক হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। এর গতি ছিল শব্দের বেগের ২২ গুণ।
তবে জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসুকাজু হামাডা বলেন, ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর জন্য যথেষ্ট ছিল।
তিনি বলেন, ক্ষেপণাস্ত্রটির গতিপথ বিবেচনা করে ধারণা করা যায় ওয়ারহেডের ওজনভেদে এর সর্বোচ্চ পাল্লা ১৫ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারত। আর তার মানে মার্কিন ভূখণ্ড এর পাল্লার সীমানার মধ্যে ছিল।
এ ধরণের পদক্ষেপ একদমই সহ্য করা হবে না বলে পিয়ংইয়ংকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অপরদিকে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।
রোববার (১৩ নভেম্বর) কম্বোডিয়ায় এক বৈঠকে পারস্পরিক সামরিক সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার করেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইয়ুন সুক-ইওল, জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
এরপর বৃহস্পতিবার উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এফএম চোই সন হুই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ওই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করলে আরও 'কঠোর' প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। আর তারপরই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে উত্তর কোরিয়া।
আরও পড়ুন: টুইটারের দৈনিক লোকসান ৪০ লাখ ডলার
গত দুই মাসে ৫০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। এদের মধ্যে বেশিরভাগ স্বল্প পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হলেও, কয়েকটি ছিল দূরপাল্লার যেগুলোর যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সরাসরি হুমকিস্বরূপ।
বর্তমানে হোয়াসং-১৭ নামের একটি নতুন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে কাজ করছে উত্তর কোরিয়া। অতীতে যেসব আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইলের পরীক্ষা চালানো হয়েছে তার চেয়ে এটি অনেক বড়। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এটি একসাথে একাধিক ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম, যা একে প্রতিরোধ করা আরও কঠিন করে তুলবে।