অস্ট্রিয়া এবং হাঙ্গেরির পর ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত তৃতীয় দেশ হিসেবে ইউক্রেনীয় সেনাদের যুদ্ধ প্রশিক্ষণ দিতে অস্বীকৃতি জানালো ক্রোয়েশিয়া।
বার্তা সংস্থা ইউক্রেনফর্মের খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার ক্রোয়েশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী মারিও বানোজিচের এক চিঠির জবাবে দেশটির প্রেসিডেন্ট জোরান মিলানোভিচ অস্বীকৃতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রেসিডেন্ট জোরান চিঠির জবাবে বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশ হিসেবে ক্রোয়েশিয়ার জন্য ইউক্রেনের সেনাদের সামরিক প্রশিক্ষণে অংশ নেয়া মোটেই লাভজনক নয় এবং এটি ক্রোয়েশিয়ার জনগণ চায় না।
এর আগে ক্রোয়েশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী মারিও বানোজিচ ইউক্রেনের সেনাদের প্রশিক্ষণ দেয়ার কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার জন্য প্রেসিডেন্টকে চিঠি পাঠান।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর চিঠির জবাবে প্রেসিডেন্ট মিলানোভিচ আরও বলেছেন, ক্রোয়েশিয়ার সংবিধান প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে এই ধরনের প্রস্তাব দেয়ার অনুমতি দেয় না।
তিনি যোগ করেন, ইউক্রেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য নয়, অথবা ক্রোয়েশিয়া যেসব জোটের সদস্য তার কোনো সদস্য নয় কিয়েভ। রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায়ও অংশ নিতে চাননি ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট।
পার্স নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রোয়েশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে যে ক্ষমতার লড়াই চলছে তার সর্বশেষ বহি:প্রকাশ হচ্ছে দেশের প্রেসিডেন্টের এই প্রকাশ্য মতামত। সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির এই প্রেসিডেন্টকে মাঝেমধ্যেই ক্রোয়েশিয়ার সংসদ ও মন্ত্রিসভার পক্ষ থেকে অপ্রস্তুতকর অবস্থায় ফেলা হয়।
প্রেসিডেন্ট জোরান মিলানোভিচ
২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে প্রেসিডেন্ট মিলানোভিচ ক্ষমতায় রয়েছেন। দেশটির সংসদ এবং মন্ত্রিসভার উপর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে মূলত জাতীয়তাবাদী এইচডিজেড দলের। এ দলটি ক্রোয়েশিয়ার মাটিতেই ইউক্রেনের সেনাদের প্রশিক্ষণ দিতে আগ্রহী।
ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত বিভিন্ন দেশে ইউক্রেনের ১৫ হাজার সেনা বর্তমানে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। তবে এরআগে হাঙ্গেরি এবং অস্ট্রিয়া এ প্রশিক্ষণ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।
একাত্তর/আরবিএস